লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক... কোটি টাকা আর জীবনের সবটুকু শ্রম বিলিয়ে আপনি যখন আল্লাহর ঘরের মুসাফির হন, তখন মনের ভেতর একটিই আকুতি থাকে—‘আমার হজ কি কবুল হলো?’ বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন, কবুল হজের একমাত্র প্রতিদান হলো জান্নাত। কিন্তু আমরা কীভাবে বুঝব আল্লাহ আমাদের এই বিশাল ইবাদত গ্রহণ করেছেন? মক্কায় কাটানো দিনগুলো শেষ হওয়ার পর, আপনার অবর্তমান জীবনই বলে দেবে আপনার হজ ‘মকবুল’ বা সফল হয়েছে কি না।

চলুন জেনে নিই এমন ১০টি ইতিবাচক পরিবর্তন, যা একজন হাজির জীবনে হজ কবুল হওয়ার অকাট্য প্রমাণ।

১. হজ কবুল হওয়ার প্রধান লক্ষণ হলো, দেশে ফেরার পর ইমান ও ইবাদতের প্রতি আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে যাওয়া। নামাজে অলসতা কেটে গিয়ে জামাতের প্রতি গভীর ভালোবাসা তৈরি হওয়া। তথা নেক আমলে প্রতি নতুন গতি আসা। 

২. তাবেয়ি হাসান বসরি (রহ.)-এর মতে, হজ থেকে ফেরার পর যার অন্তর থেকে দুনিয়ার লোভ কমে যায় এবং আখিরাতের প্রতি ব্যাকুলতা বাড়ে, তার হজই ‘হজে মাবরুর’।

৩. সুদের হিসাব, ঘুষের লেনদেন, মিথ্যা বা গিবতের মতো পুরোনো সব অভ্যাস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া হজ কবুলের বড় প্রমাণ।

৪. এত বড় ইবাদত করার পরও অহংকার না এসে, ‘আল্লাহর দরবারে তা কবুল হলো কি না’—এই চিন্তায় হাজির মন সর্বদা বিনীত থাকে।

৫. নামের আগে লৌকিক পদবি ছড়ানোর মানসিকতা পরিহার করে, স্রেফ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালো কাজে মগ্ন থাকা।

৬. হাদিস অনুযায়ী, ক্ষুধার্তকে অন্ন দেওয়া এবং সালামের প্রসার ঘটানো মকবুল হজের অন্যতম আলামত।

৭. যেকোনো সংকটে পাখির মতো আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা।

৮. হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও যার মুখে সার্বক্ষণিক আল্লাহর স্মরণ ও জিকির জারি থাকে।

৯. নিজেকে আরও পরিশুদ্ধ করতে ইসলামের সঠিক জ্ঞান আহরণের ব্যাকুলতা তৈরি হওয়া।

১০. শুধু নিজে ভালো হওয়া নয়, বরং পরিবার ও সমাজে দ্বীন প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখা এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের প্রতীক হয়ে ওঠা।

হজ মূলত একজন মানুষের আত্মিক পুনর্জন্ম। মক্কা থেকে ফেরার পর আপনার আগের জীবন আর পরের জীবনের ইতিবাচক পরিবর্তনই প্রমাণ করবে আপনি কতটা সফল। আল্লাহ আমাদের সবার হজকে ‘হজে মাবরুর’ হিসেবে কবুল করুন। আমিন।

জা.অর্থনীতি/  উমার