কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লা মহানগরে জেলা এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ নকল ও অননুমোদিত ওষুধ, ওষুধ তৈরির কেমিক্যাল, উৎপাদন মেশিন ও সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নকল ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহ চক্রের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৬ জুন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত প্রায় ১১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত জেলা এনএসআই কুমিল্লার তথ্যের ভিত্তিতে এবং তাদের সরেজমিন উপস্থিতিতে পুলিশের সহযোগিতায় কুমিল্লা মহানগরের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড সংলগ্ন শ্রীবল্লভপুর এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে পিকআপটি থেকে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি অননুমোদিত নকল ক্যাপসুল, ট্যাবলেট ও সিরাপসহ মোট ১৮ হাজার ৬৬০ পিস ওষুধ জব্দ করা হয়। এছাড়া প্রায় ১০০ কেজি ওষুধ তৈরির কেমিক্যাল পাউডার, ৭ লিটার তরল কেমিক্যাল, প্রায় ২০ হাজার ওষুধের লেবেল, ১৫ কেজি ফয়েল পেপার এবং নকল ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত তিনটি মেশিন উদ্ধার করা হয়।
এ সময় সদর দক্ষিণ উপজেলার শ্রীনিবাস এলাকার বাসিন্দা জুনায়েদ ইসলাম (৩০)-কে আটক করা হয়। তিনি মো. আব্দুল কাদেরের ছেলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তিনি নকল ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহ চক্রের সঙ্গে জড়িত।
অভিযান শেষে জব্দ করা মালামাল সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নেওয়া হয়। পরে সদর দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলা ঔষধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলামের উপস্থিতিতে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নিয়মিত আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এনএসআই সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা বিসিক শিল্পনগরীর একটি গুদামে রাখা এসব অবৈধ মালামালের ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছিল। পরে গুদাম থেকে মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার তথ্য পেয়ে এনএসআই সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে উপযুক্ত সময় ও স্থানে অভিযান চালিয়ে পিকআপভর্তি নকল ওষুধ ও উৎপাদন সামগ্রী জব্দ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
সূত্রটি আরও জানায়, বিসিক শিল্পনগরীতে নকল ওষুধ কারখানার বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী অভিযানের ধারাবাহিকতায় এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি