আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তীব্র ও রেকর্ড ভাঙা দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সমগ্র ইউরোপ। প্রচণ্ড গরমে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ইতোমধ্যে কেবল ফ্রান্সেই ১ হাজার জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে।
ফরাসি স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, এই প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে জার্মানি, ইতালি এবং পোল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তীব্র গরমের পাশাপাশি কিছু এলাকায় শক্তিশালী ঝড় আঘাত হানায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে।
ফরাসি জনস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, তীব্র গরমে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগই বয়স্ক নাগরিক। কেয়ার হোম এবং বিভিন্ন বাড়ি থেকে মৃত্যুর আরও তথ্য আসার পর এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, আবহাওয়া কিছুটা ঠান্ডা হলেও দাবদাহের এই মারাত্মক প্রভাব পরবর্তী ১০ দিন পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
বিজ্ঞানীদের মতে, গত ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া এই দাবদাহটি ইউরোপের ইতিহাসে রেকর্ড করা সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি। মানুষের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এই তীব্র দাবদাহের সৃষ্টি হয়েছে, যা ছাড়া এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে রাতের বেলার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা গত ২ দশকের তুলনায় বর্তমানে ১০০ গুণ বেড়ে গেছে।
তীব্র গরমে ইউরোপের নদীগুলোর পানি শুকিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তাপমাত্রা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও কৃষি কাজ। হাঙ্গেরিতে দানিয়ুব নদীর পানি অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ায় পাক্স পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুনরায় কমিয়ে আনতে বাধ্য হচ্ছে দেশটির সরকার।
ইতালিতে পো নদীর পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাওয়ায় সমুদ্রের লোনা পানি ভেতরের দিকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার পর্যন্ত ঢুকে পড়েছে। এতে নদী অববাহিকার কৃষি ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া জার্মানিতে অতিরিক্ত গরমের কারণে নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যে ট্রেন চলাচল সীমিত করা হয়েছে এবং লাইপজিগ শহরে ট্রাম চলাচল স্থগিত রয়েছে।
দাবদাহ থেকে বাঁচতে নদীতে নেমে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বেশ কিছু মানুষের পানিতে ডুবে মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। ইতালির ক্যাবিনেট মন্ত্রী ইউজিনিয়া রোচেলার স্বামী রোমের কাছাকাছি একটি হ্রদে সাঁতার কাটতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন, উদ্ধারকারীরা এখনো তার সন্ধান চালাচ্ছেন।
শনিবার (২৭ জুন) রাতের দিকে ফ্রান্সের কিছু অংশে শক্তিশালী ঝড় আঘাত হানায় আবহাওয়া কিছুটা ঠান্ডা হয়েছে। তবে এই ঝড়ের কারণে উপড়ে গেছে গাছপালা এবং ভেঙে পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা।
বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এনেডিস জানিয়েছে, রোববার (২৮ জুন) সকাল পর্যন্ত উত্তর ও মধ্য ফ্রান্সের প্রায় ৬৩ হাজার পরিবার সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে।
ইউরোপের আবহাওয়া দপ্তরগুলো জানিয়েছে, ফ্রান্সের কিছু অংশে গরমের তীব্রতা কিছুটা কমলেও জার্মানি ও পোল্যান্ডসহ পূর্ব ও দক্ষিণ ইউরোপের দেশগুলোতে আজও চরম আবহাওয়া বিরাজ করবে। সূত্র: রয়টার্স
জা.অর্থনীতি/এসআই/এনজে
