নিজস্ব প্রতিবেদক: জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন, আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক পরিবেশগত সুশাসন জোরদারে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ ও সমন্বিত পর্বত উন্নয়নবিষয়ক আন্তর্জাতিক কেন্দ্র (আইসিআইএমওডি)।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং আইসিআইএমওডির মহাপরিচালক পেমা গ্যামছোর মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকে আইসিআইএমওডির মহাপরিচালক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমবাহ-উৎসভিত্তিক নদী ব্যবস্থা-সংক্রান্ত আন্তঃসীমান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
একই সঙ্গে যৌথ পানি সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সমন্বিত আন্তঃসীমান্ত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি আইসিআইএমওডির মধ্য মেয়াদি মূল্যায়ন ও কৌশলগত পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সমর্থনও কামনা করেন।
বৈঠকে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়কে বাংলাদেশে আইসিআইএমওডির জাতীয় সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মনোনীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপন করা হবে।
পরিবেশমন্ত্রী আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য আইসিআইএমওডির পরিচালনা পর্ষদের সভায় অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং সংস্থাটির মধ্যমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ ভবিষ্যতের বিভিন্ন উদ্যোগে বাংলাদেশের ধারাবাহিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।
বৈঠকে উভয়পক্ষ পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে।
তারা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ প্রধান নদীর উৎপত্তি প্রতিবেশী দেশগুলোতে হওয়ায় আন্তঃসীমান্ত জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু অভিযোজন এবং পর্বত থেকে বদ্বীপ পর্যন্ত বাস্তুতন্ত্রের টেকসই ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ সময়ের দাবি।
বৈঠকের শেষে বাংলাদেশ ও আইসিআইএমওডির দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করা হয় এবং ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
—জা.অর্থনীতি/এনজে