ঢাকায় আন্তর্জাতিক ‘বি-বিউটি টেক এক্সপো’ শুরু ১৬ জুলাই
ছবি সংগৃহীত

কর্পোরেট ডেস্ক: বাংলাদেশের বিউটি, কসমেটিক্স, পার্সোনাল কেয়ার, ওয়েলনেস এবং বিউটি টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রিকে আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের সঙ্গে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে আগামী ১৬ জুলাই  ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৩ দিনব্যাপ্তি দেশের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক বিটুবি ট্রেড এক্সিবিশন বি-বিউটি টেক এক্সপো-২০২৬।

শনিবার (৪ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন এক্সপোর আয়োজকরা। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৩ দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীটি রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি-আইসিসিবিতে অনুষ্ঠিত হবে। এক্সপোর আয়োজনে  রয়েছে ওয়েম বাংলাদেশ।  

সংবাদ সম্মেলনে এক্সপোর বিস্তারিত তুলে ধরেন ওয়েম বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালক নাসিমুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওয়েম বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শেখ মোহাম্মদ আরিফ ও হারমনি স্পা'র  সিইও রহিমা সুলতানা রিতা।

প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের বিউটি ও পার্সোনাল কেয়ার ইন্ডাস্ট্রিকে উৎপাদনভিত্তিক শিল্প অর্থনীতিতে রূপান্তরের পথে এগিয়ে নেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

আয়োজকরা জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের বিউটি ও পার্সোনাল কেয়ার মার্কেটের আনুমানিক আকার ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বছরগুলোতে এই খাত বার্ষিক ৬ থেকে ৯ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম।

বিউটি সালোন স্পা, ওয়েলনেস সেন্টার, কসমেটিক্স রিটেল, ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক, ই -কমার্স, ম্যানুফ্যাকচারিং , প্যাকেজিং , ট্রেনিং ইনস্টিটিউটসহ  সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৪ থেকে ৫ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত রয়েছে। সঠিক বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তর নিশ্চিত করা গেলে আগামী এক দশকে এই খাত থেকেই আরও ৫ থেকে ৮ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশের বিউটি ইন্ডাস্ট্রির একটি বড় অংশ এখনও আমদানিনির্ভর। 

আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হওয়ায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। 

এই বাস্তবতাকে চ্যালেঞ্জ নয়, বরং সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করেই B-Beauty Tech Expo 2026 আয়োজন করা হচ্ছে, যাতে স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা যায়।

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই এক্সপো শুধুমাত্র একটি প্রদর্শনী নয়; এটি একটি আন্তর্জাতিক B2B বিজনেস ম্যাচিং প্ল্যাটফর্ম, ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যাটফর্ম এবং টেকনোলজি ট্রান্সফার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের আয়োজনে ৬০টিরও বেশি এক্সিবিটর, ১২০টিরও বেশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এবং ৮টিরও বেশি দেশের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রায় ৮ হাজারেরও বেশি শিল্প সংশ্লিষ্ট দর্শনার্থী ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধি এই প্রদর্শনীতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্বনামধন্য ব্র্যান্ড ও প্রতিষ্ঠান এক্সপোতে অংশগ্রহণ করবে।

—জা. অর্থনীতি/এনজে