ওষুধ নেই, জনবল নেই—নামমাত্র চলছে গ্রামের ভরসার ক্লিনিক
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার ১৮৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকে তীব্র ওষুধ ও জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এসব প্রতিষ্ঠান চালু হলেও বর্তমানে ওষুধ না থাকায় রোগীরা খালি হাতে ফিরছেন এবং অনেক ক্লিনিক নির্ধারিত সময়ের আগেই তালাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।

শনিবার (৪ জুলাই) সরেজমিনে শ্রীমঙ্গলের লাইয়ারকুল, কমলগঞ্জের কাকীয়াছড়া ও সদরের শ্যামরেকোনা কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, দুপুর ২টার আগেই সেগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী সাবিনা আক্তার ও ফাতেহা বেগম অভিযোগ করেন, গত এক বছর ধরে ক্লিনিকে অ্যান্টিবায়োটিক তো দূরের কথা, সাধারণ ওষুধও মিলছে না। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২৭ ধরনের ওষুধ থাকার কথা থাকলেও এখন প্যারাসিটামল ও স্যালাইন ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগে প্রতিটি ক্লিনিকে প্রতি মাসে গড়ে তিন কার্টন ওষুধ বরাদ্দ আসলেও এখন তা কমে মাত্র এক কার্টনে দাঁড়িয়েছে। জেলার ৭টি উপজেলার এসব ক্লিনিক থেকে প্রায় ১ লাখ মানুষ প্রাথমিক সেবা নিলেও বর্তমানে সংকটের কারণে সেবার মান তলানিতে ঠেকেছে। ওষুধের পাশাপাশি রয়েছে তীব্র জনবল সংকট। সপ্তাহে ৬ দিন ক্লিনিক খোলার নিয়ম থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার কল্যাণ সহকারীরা অনুপস্থিত থাকেন, ফলে কেবল সিএইচসিপিদের একাই দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে।

শ্যামরেকোনা ক্লিনিকের সিএইচসিপি জান্নাত আরা বেগম বলেন, "ওষুধ না থাকায় রোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং আমাদের সাথে দুর্ব্যবহার করছেন।" জেলা সিএইচসিপি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুবেল আহমেদ জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েও শুধু আশ্বাস ছাড়া কোনো সমাধান মেলেনি।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন ওষুধের তীব্র ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন। মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, "কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্ট আগের চেয়ে ওষুধ কমিয়ে দিয়েছে। আমরা পর্যাপ্ত ওষুধের জন্য নিয়মিত দাবি জানাচ্ছি, আশা করি দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।"

—জা. অর্থনীতি/এলএটি