রাঙামাটি প্রতিনিধি: রাঙামাটিতে টানা চারদিনের অতিভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় জেলাজুড়ে ২০৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। একই সঙ্গে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন। তবে দুর্যোগের এই চরম মুহূর্তেও ঝুঁকিতে থাকা লোকজনের সুনির্দিষ্ট কোনো তালিকা তৈরি করতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন। রাঙামাটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক ক্য চি নু মারমা জানান— সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২৮৭ মিলিমিটার অতিভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে; যার ফলে পাহাড় ধসের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের রূপনগর, শিমুলতলী, মুসলিম পাড়াসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জেলা প্রশাসনের মাইকিং চলছে। ইতিমধ্যে শহরের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ৮০৪ জন লোক আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া রাঙামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকা ও বাঘাইছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গতকাল সকালে বাঘাইছড়িতে পাহাড় থেকে গাছের গুঁড়ি মাথায় পড়ে লক্ষ্মীবিলাস চাকমা (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধার তৎপরতা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তারা হলেন— রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) নিশাত শারমিন এবং রাঙামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে— রাঙামাটি শহরের ২৯টিসহ পুরো জেলার ১০টি উপজেলায় ১০০টিরও বেশি এলাকাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান— “দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। পুলিশ প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে সাথে নিয়ে সমন্বিতভাবে মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে।” এছাড়া রাঙামাটি-চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটলেও সড়ক বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে মাটি সরিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটিতে ইতিহাসের ভয়াবহতম পাহাড় ধসের ঘটনায় ৫ সেনাসদস্যসহ ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া ২০১৮ সালে নানিয়ারচরে ১১ জন এবং ২০১৯ সালে কাপ্তাইয়ে ৩ জন পাহাড় ধসে মারা যান। প্রতি বছর মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত থাকলেও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে 'মৃত্যুকূপে' মানুষের বসবাস কোনোভাবেই থামছে না।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি
