সেতু নির্মাণের কাজ বন্ধ, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে বাঘাছড়ার ওপর নির্মাণাধীন প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ টাকার একটি সেতুর কাজ দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। নির্ধারিত মেয়াদের ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ৪ ভাগের ১ ভাগও (২৫ শতাংশ) হয়নি; বরং খোলা আকাশের নিচে মূল্যবান নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখায় তা রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে। ফলে কমলগঞ্জের অন্তত ২৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ চরম যোগাযোগ দুর্ভোগে পড়েছেন। 

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আছাদুজ্জামান এই জনভোগান্তির সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন— খুব দ্রুতই স্থানীয় প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসে সেতুটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনসাধারণের এই চরম ভোগান্তি, নির্মাণে গাফিলতি এবং দাপ্তরিক জবাবদিহিতার সাথে সংশ্লিষ্ট মূল ব্যক্তিরা হলেন— ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম পরিচালক উত্তম কুমার স্বপন, কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাইফুল আজম, স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল্লাহ মিয়া এবং ভুক্তভোগী এলাকাবাসী রুবেল মিয়া, নেওয়ারুন বেগম ও সদরুল ইসলাম।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে— ইসলামপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম বাঘাছড়ার ওপর এডিবির অর্থায়নে প্রায় ১০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে, যা দক্ষিণ কানাইদেশী ও উত্তর কানাইদেশী গ্রামকে সংযুক্ত করবে। সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় পাশে একটি অস্থায়ী বিকল্প রাস্তা তৈরি করা হলেও সেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেখান দিয়ে পার হতে গিয়ে ইতিমধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী কয়েকজন শিক্ষার্থী নিচে পড়ে আহত হয়েছে। বর্তমানে রোগী, শিক্ষার্থী ও কৃষিপণ্য পরিবহনে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ মিয়া অভিযোগ করে বলেন— “এক বছর আগে কাজ শুরু হলেও ২৫ শতাংশ কাজও শেষ হয়নি, অথচ চলতি বছরের মার্চ মাসেই কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, সেতুর কাজের মান নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে; এখানে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।”

সেতুর কাজ বন্ধের বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম পরিচালক উত্তম কুমার স্বপনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে “গাড়িতে আছি, পরে কথা বলব” বলে ফোন কেটে দেন এবং পরবর্তীতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাইফুল আজম কিছুটা ভিন্ন সুর তুলে বলেন— “প্রকল্পের সাইনবোর্ডে দেওয়া কাজ আরম্ভ ও শেষের তারিখে মূলত কিছু ভুল রয়েছে, সেটি সংশোধনের জন্য বলা হয়েছে।

তবে কাজের মেয়াদ আরও না বাড়ালে এই কাজ শেষ করা সম্ভব নয়।” এদিকে, লাখ লাখ টাকার সরকারি নির্মাণসামগ্রী নষ্ট হওয়া রোধ করতে এবং জীবনের ঝুঁকি এড়াতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতুটি নির্মাণ করে চলাচলের উপযোগী করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি