সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী এলাকায় প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি পাকা সেতু এখন এলাকাবাসীর কাছে যেন ‘খালের মাঝখানের দ্বীপ’। শ্যামনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিরাজ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সেতুর মূল কাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় এক মাস আগে। কিন্তু দুই পাশে সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) নির্মাণ না হওয়ায় সেটি কোনো কাজেই আসছে না। ফলে টেংরাখালীসহ আশপাশের পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষ এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি নড়বড়ে কাঠের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।
উপজেলা পিআইও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে টেংরাখালী গ্রামের দাউদ গাজীর বাড়ির সামনে সীমানার খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করে ‘আরিফ এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এক মাস আগে মূল কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চলে গেলেও দুই পাশে মাটি ভরাট করেনি। ফলে টেংরাখালী, পার্শ্বেখালী, মিরগাং, কালিঞ্চী ও ঠাকুরঘেরী গ্রামের মানুষ এখনো পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকো ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। শুধু তাই নয়, সেতু নির্মাণের সময় সংযোগ সড়কের জন্য নির্ধারিত স্থান থেকে স্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাটি কেটে বাইরে বিক্রি করে দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার কারণে সড়কের দুই পাশে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়ে আশপাশের কয়েকটি বসতবাড়িও ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ গাজী অভিযোগ করেন, ঠিকাদার মাটি কাটতে গিয়ে তার বসতঘর খালের মধ্যে ভেঙে পড়েছে, কিন্তু পিআইও অফিসে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি।
রমজাননগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল হামিদ লাল্টু বলেন, “সেতুটির সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি সত্য। আমি নিজে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) বিষয়টি জানিয়েছি। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।”
পিআইও মিরাজ হোসেন বলেন, “ঠিকাদারকে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্ষা ও বৃষ্টির কারণে কাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টি কমলেই সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা হবে।” তবে স্থানীয়দের দাবি, বৃষ্টি কোনো অজুহাত হতে পারে না। মাটি কেটে বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত সেতুটিকে চলাচলের উপযোগী করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি