ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: আকাশভাঙা এই বর্ষণ যেন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আটকে ফেলেছে এক অদৃশ্য দেয়ালে। শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি, মাঠ-ঘাট এবং অসংখ্য এলাকা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার এই তীব্র রূপ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ছন্দকে পুরোপুরি স্তব্ধ করে দিয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ পরিস্থিতির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
রাত থেকে শুরু হওয়া অঝোর ধারার বৃষ্টিতে শুক্রবার (১০ জুলাই) সারাদিন সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহর।
টানা বৃষ্টির ফলে রাস্তায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ কম এবং অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। বৃষ্টির এই দিনে রাস্তাঘাটে যানবাহন ও মানুষের উপস্থিতি অন্য দিনের তুলনায় অনেক কম ছিল। ব্যাটারিচালিত ইজিরাইডার, রিকশা, ভ্যান থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত যানবাহনগুলো পানি ও কাদায় আটকে পড়ায় পরিবহন ব্যবস্থায় চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে। চালকরা পড়েছেন বড় সংকটে; পানি ঢুকে ইঞ্জিন বা মোটর বিকল হওয়ার ভয়ে অনেকেই গাড়ি রাস্তায় নামাতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে কর্মজীবী মানুষ ও শুক্রবারের জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া সাধারণ পথচারীরা পড়েছেন সীমাহীন ভোগান্তিতে।
সকাল থেকে বৃষ্টির দাপটে কাঁচাবাজারের চিত্রও ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। জনশূন্য প্রায় বাজার এলাকায় দোকানপাট খুললেও ক্রেতার দেখা নেই বললেই চলে, যার কারণে ব্যবসায়ীরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পানি নিষ্কাশনের ড্রেনগুলো উপচে ময়লা-আবর্জনা মিশ্রিত নোংরা জল রাস্তার ওপর উঠে আসায় পথচলা দায় হয়ে পড়েছে। এদিকে বাকুলিয়া, খয়েরতলা, ব্র্যাক অফিস পাড়া, কলেজপাড়া, গোহাটা, শিবনগর ও আড়পাড়াসহ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা ও কাদার কারণে যাতায়াত ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাকুলিয়া ব্র্যাক অফিসের পেছনের এলাকায় রাস্তার ওপর পুরু কাদা ও হাঁটু পানি জমে যাওয়ায় বাসা-বাড়ি থেকে বের হওয়া বা ফিরে আসা বাসিন্দাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ— অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সামান্য বৃষ্টিতেই কালীগঞ্জকে এমন জলমগ্ন অবস্থায় পড়তে হয়, যা এখন স্থানীয়দের জন্য স্থায়ী দুর্ভোগে রূপ নিয়েছে।
ইউএনও বলেন, "পৌর এলাকার পানি নিষ্কাশনের কার্যক্রম সবসময়ই চলমান থাকে এবং এখনো আমাদের কাজ চলতেছে। বর্তমানে কলাহাটা এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশনের কাজ করা হচ্ছে। জনভোগান্তি কমাতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।"
—জা. অর্থনীতি/এলএটি
