ধর্ম ডেস্ক: ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৫ সালে ২ হাজার ১৭৯ জন তরুণ-তরুণীকে দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দিয়েছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। অভাবনীয় বিষয় হলো, প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাত্র এক বছরের মধ্যেই তারা সম্মিলিতভাবে ৪২ কোটিরও বেশি টাকা আয় করতে সক্ষম হয়েছেন।
শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর আফতাবনগরে ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত ‘মিডিয়া কানেক্ট সামিট’-এ সাফল্যের এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।
ফাউন্ডেশনের চলমান সেবামূলক কার্যক্রম ও দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে সরাসরি ধারণা দিতে এবং পারস্পরিক মতবিনিময়ের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো এই সামিটের আয়োজন করা হয়। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের সম্পাদক, বার্তা প্রধান, বিপণন প্রধান ও নীতি-নির্ধারকেরা অংশ নেন।
সামিটে ফাউন্ডেশনের জেনারেল সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার সাব্বির আহম্মদ জানান, আস-সুন্নাহ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটে বর্তমানে ১৪টি কর্মমুখী কোর্স পরিচালিত হচ্ছে এবং সময়োপযোগী আরও নতুন কোর্স চালুর প্রক্রিয়া চলছে।
সামিটে অংশগ্রহণকারী অতিথিরা স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন ল্যাব, ফ্রি মোবাইল রিপেয়ারিং সেন্টার ও নারী দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তারা প্রশিক্ষণার্থীদের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং শিক্ষার চমৎকার পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্যের কথা জানিয়ে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিবছর এক লাখ বেকার তরুণ-তরুণীকে কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা আমাদের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে দেশীয় ও বৈশ্বিক কর্মবাজারে তাদের কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ তৈরি হবে।
ফাউন্ডেশনের হেড অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফরিদ খান জানান, যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে ২০২২ সালে ‘আস-সুন্নাহ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষাকে সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দিয়ে বেকারত্ব দূর করা এবং টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য।
পরিদর্শন শেষে অতিথিদের সামনে ফাউন্ডেশনের শিক্ষা, মানবিক সেবা ও কর্মসংস্থানমূলক বহুমুখী উদ্যোগ নিয়ে একটি মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে অতিথিরা ফাউন্ডেশনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কর্মসংস্থান মডেল নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। ফাউন্ডেশনের দায়িত্বশীলরা এসব প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর দেন এবং অতিথিদের দেওয়া মূল্যবান পরামর্শগুলো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
জা.অর্থনীতি/ উমার
