যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বাড়লে ঝুঁকিতে পড়বে ২০২৭ সালের তেলের বাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা আরও বাড়লে ২০২৭ সালে বৈশ্বিক তেলবাজারে বড় ধরনের উদ্বৃত্তের যে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ), তা ভেস্তে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত আইইএর মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ায় জুন মাসে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ আগের মাসের তুলনায় দৈনিক ৪১ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। তবে সরবরাহ এখনও যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় দৈনিক ৯৪ লাখ ব্যারেল কম রয়েছে।

আইইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ দৈনিক ৩৭ লাখ ব্যারেল কমলেও ২০২৭ সালে তা ৭৫ লাখ ব্যারেল বাড়তে পারে। তবে এই পূর্বাভাস বাস্তবায়নের জন্য হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌযান চলাচল এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে স্থায়ী শান্তি চুক্তি অপরিহার্য।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে তেলবাজারে দৈনিক প্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেলের ঘাটতি থাকলেও ২০২৭ সালে বাজারে দৈনিক প্রায় ৪৬ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলের উদ্বৃত্ত তৈরি হতে পারে।

চাহিদার ক্ষেত্রে আইইএর ধারণা, চলতি বছরে বৈশ্বিক তেলের চাহিদা দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল কমবে। তবে ২০২৭ সালে তা আবার দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল বাড়তে পারে। গ্রীষ্মকালীন জ্বালানির চাহিদা এবং তুলনামূলক কম তেলের দামও ভোগ বাড়াতে সহায়ক হবে বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

এদিকে অপরিশোধিত তেলের রপ্তানি বাড়লেও পরিশোধিত জ্বালানির উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক গতিতে ফিরতে পারেনি। ফলে পেট্রোল ও ডিজেলের বাজারে সরবরাহ সংকুচিত হয়েছে এবং শোধনাগারগুলোর মুনাফা চার বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আইইএ আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার পর জুন মাসে বৈশ্বিক তেলের মজুত ২ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। এর আগে মার্চ থেকে মে পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট ৩৬ কোটি ব্যারেল তেলের মজুত কমে গিয়েছিল।

সূত্র: রয়টার্স

জা.অর্থনীতি/এসআই