মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: গাজীপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে অন্য হাতির আক্রমণে গুরুতর আহত হাতি ‘রাজু বাহাদুর’-এর চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন হাতিটির মালিক ও মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান। হাতিটির সুচিকিৎসার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ চেয়ে তিনি সম্প্রতি প্রধান বন সংরক্ষকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
সাফারি পার্ক ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে ‘রাজু বাহাদুর’ নামের ১২ বছর বয়সী এই হাতিটিকে উদ্ধার করে সাফারি পার্কে পাঠায়। পরে গত ২৪ মে হাতিশালায় অন্য একটি হাতির আক্রমণে রাজু বাহাদুরের সামনের একটি পা ভেঙে যায়। ঘটনার পর থেকে দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে এবং গত ৪ জুন থাইল্যান্ড থেকে আসা দুজন বন্য প্রাণী চিকিৎসকের পরামর্শে তার চিকিৎসা চলছে। তবে দীর্ঘ দেড় মাস পার হলেও হাতিটি এখনো উঠে দাঁড়াতে পারেনি।
হাতিটির মালিক আতিকুর রহমান বলেন, "থাইল্যান্ডের চিকিৎসকেরা আসার পরও হাতিটি এখনো দাঁড়াতে পারেনি, দিন দিন আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে। এটি দেশের সম্পদ, তাই একে বাঁচানো জরুরি। এ বিষয়ে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।" তিনি আরও জানান, হাতিটির বাজারমূল্য ও লালনপালন খরচ বাবদ প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে তিনি ১ জুলাই প্রধান বন সংরক্ষকের কাছে আবেদন করেছেন।
গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান জানান, পার্কে থাকা পুরুষ হাতিরা শিকলবন্দী থাকলেও মুক্ত থাকা স্ত্রী হাতিরা তাদের পাশে চলে যায়। এমন দুর্ঘটনা ঘটবে তা আগে আঁচ করা যায়নি। হাতিটির অবস্থা বর্তমানে অপরিবর্তিত রয়েছে এবং তাকে দুই বার ক্রেন দিয়ে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তবে মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসা ও থাইল্যান্ডের চিকিৎসকদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি
