আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জর্ডানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চার সেনা আহত হলেও চিকিৎসা শেষে তারা হাসপাতাল ছেড়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
নিহত সেনাদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হওয়া পর্যন্ত তাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
হামলার জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শনিবার রাতে টানা অষ্টম দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টকমের দাবি, এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের হুমকি কমানো এবং জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলায় জড়িত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে লক্ষ্যবস্তু করা।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, আইআরজিসি জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে অন্তত দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। তবে এ বিষয়ে সেন্টকম কোনো মন্তব্য করেনি।
জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরানের ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে এবং এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
নতুন এই হামলার ফলে চলমান সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে নিখোঁজ এক মার্কিন নৌবাহিনীর পাইলটকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা ব্যক্তিদের, সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও তা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভেঙে পড়ে। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জা.অর্থনীতি/এসআই