নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে নতুন একটি গ্যাসকূপের খননকাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। প্রাথমিক মূল্যায়নে কূপটি থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে। খনন ও ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) সফল হলে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে নতুন করে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে ‘সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ’ প্রকল্পের খননকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল থেকে পুরোদমে শুরু হয়েছে ড্রিলিং। কূপ এলাকায় ২৪ ঘণ্টা পালাক্রমে কাজ করছেন প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীরা।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন কূপটি সেনবাগে হলেও এটি কোম্পানীগঞ্জের সুন্দরপুর গ্যাস ফিল্ডের একই ভূগর্ভস্থ গ্যাস রিজার্ভের অংশ। সে কারণেই কূপটির নাম রাখা হয়েছে ‘সুন্দলপুর-৪’।
এর আগে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর এলাকায় সুন্দরপুর-১, সুন্দরপুর-২ ও সুন্দরপুর-৩ কূপ খনন করা হয়। নতুন কূপটি সুন্দরপুর-২ থেকে প্রায় ১২ থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে হলেও একই গ্যাস রিজার্ভের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এ নামকরণ করা হয়েছে।
বাপেক্স সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ, সড়ক নির্মাণ, ড্রিলিং প্যাড প্রস্তুতসহ অবকাঠামোগত কাজ শেষ করে চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে কূপ এলাকায় ড্রিলিং রিগ স্থাপন করা হয়। এরপর যন্ত্রপাতি স্থাপন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে খনন শুরু হয়।
কর্তৃপক্ষের দাবি, পুরো প্রকল্পে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণ করা হচ্ছে। খননকাজ সফল হলে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে প্রতিদিন নতুন করে কয়েক মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে, যা শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গৃহস্থালি খাতে গ্যাসের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখবে।
এদিকে নতুন গ্যাসকূপ ঘিরে আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারাও। স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদী হাসান বলেন, নোয়াখালীর মাটিতে যদি বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস পাওয়া যায়, তাহলে এটি শুধু দেশের জন্য নয়, এ অঞ্চলের মানুষের জন্যও বড় সুখবর হবে। আমরা চাই স্থানীয় জনগণও যেন এর সুফল পায়।
আরেক বাসিন্দা নুরজাহান বেগম বলেন, প্রকল্পের জন্য যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, তারা যেন দ্রুত ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পান। একই সঙ্গে এলাকার উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
বাপেক্সের কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খনন ও ডিএসটি পরীক্ষা শেষ হলে প্রায় দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে কূপটির গ্যাসের প্রকৃত মজুদ, উৎপাদন সক্ষমতা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল মিললে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ‘সুন্দলপুর-৪’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাপেক্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ড্রিলিং) ও ড্রিলিং ইনচার্জ জাকির হোসেন খান বলেন, কূপটির লক্ষ্যমাত্রিক গভীরতা ১ হাজার ৫৫০ থেকে ১ হাজার ৬০০ মিটার। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৩৬০ মিটার গভীরে সম্ভাব্য গ্যাসবাহী স্তরের সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রায় ৪৫ দিন খননকাজ চলবে। এরপর ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) সম্পন্ন করতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে কূপটির প্রকৃত সক্ষমতা ও গ্যাসের মজুদ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি বলেন, এ মুহূর্তে মোট গ্যাসের মজুদের পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে আশপাশের কূপগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, এ কূপ থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করা যেতে পারে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি