মা-বাবা-নানা নেই, অটো চালক মামা দিশেহারা
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মা, বাবা ও নানা কাউকে কাছে পাওয়ার উপায় নেই। চার এতিম শিশুকে নিয়ে এক জরাজীর্ণ টিনের ঘরে চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার মালিকোনা গ্রামের এক পরিবার।

অসহায় মামা আলেদ মিয়া বলেন, "সারা দিন পরিশ্রম করে ৩০০ টাকা পাই। আমি ভিক্ষা চাই না, কাজ করার সুযোগ চাই। ভাগ্নেগুলো যেন মানুষের মতো মানুষ হতে পারে, সেইটুকু সহায়তার জন্য সমাজ ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।"

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে মারা যান শিশুদের মা হেপু বেগম। একই বছর নিখোঁজ হন বাবা জনর মিয়া, যার সন্ধান আজও মেলেনি। সবশেষ ২০২৫ সালে শেষ ভরসা নানা মাহন মিয়া মারা গেলে এতিম হয়ে পড়ে চার শিশু- রিয়া (১০), রিয়াদ (৮), রিতা (৫) ও জিহাদ (২)। বর্তমানে এই চার এতিম শিশু, বৃদ্ধা নানি এবং মামা আলেদ মিয়ার নিজস্ব পরিবারসহ মোট ৯ সদস্যের পুরো সংসার চলছে একটি ভাড়ায় চালিত অটোরিকশার আয়ের ওপর।

প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অটোরিকশা চালিয়ে মালিকের জমা ও গ্যাস খরচ মিটিয়ে আলেদ মিয়ার হাতে থাকে মাত্র ৩০০ টাকা। চরম এই দ্রব্যমূল্যের বাজারে প্রতিদিন মাত্র ৩০০ টাকা দিয়ে ৯ জনের খাবার, ওষুধ ও আনুষঙ্গিক খরচ চালাতে গিয়ে চরম হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। অভাবের তাড়নায় ৫ম শ্রেণিতে পড়ুয়া বড় বোন রিয়ার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে ছোট ভাই-বোনদের দেখভালের জন্য। টাকার অভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না অসুস্থ ছোট শিশু জিহাদের।

চারটি অবোধ শিশুর ভবিষ্যৎ রক্ষা ও পরিবারটির দিনযাপনে মানবিক সহায়তা এবং তাদেরকে দ্রুত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সুশীল সমাজের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি