নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬-এ প্রায় ১৬ কোটি টাকার গাছের চারা বিক্রি হয়েছে। মাসব্যাপী এ মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা প্রায় ১৬ লাখ চারা কিনেছেন। ৭৪টি নার্সারির অংশগ্রহণে হওয়া এ বেচাকেনা দেশের নার্সারি খাত ও বৃক্ষভিত্তিক অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান বাজারের চিত্র তুলে ধরেছে।
রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন ভবনের হৈমন্তী মিলনায়তনে জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, এবারের বৃক্ষমেলা শুধু চারা কেনাবেচার আয়োজন ছিল না। এটি দেশের সবুজ অর্থনীতি সম্প্রসারণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, মেলায় প্রায় ১৬ লাখ চারা বিক্রি এবং ১৬ কোটি টাকার লেনদেন প্রমাণ করে সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়ার পাশাপাশি নার্সারি খাত ও বৃক্ষভিত্তিক অর্থনীতির সম্ভাবনাও দ্রুত বাড়ছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ সবুজ অর্থনীতি গড়ে তোলার শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করছে।
সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ এবং নতুন সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম বছরেই পাঁচ কোটি চারা রোপণের কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে বন অধিদপ্তর ৩ কোটি ৫০ লাখ চারা রোপণ করবে।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যুবসমাজ, নারী ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে এ কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া সারাদেশে ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান মন্ত্রী।
সরকারের বড় পরিসরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ফলে আগামী দিনগুলোতে চারা উৎপাদন ও বিক্রির বাজার আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে নার্সারি পরিচালনা, চারা উৎপাদন, পরিবহন, রোপণ ও পরিচর্যার মতো বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণকে শুধু পরিবেশ রক্ষার কর্মসূচি হিসেবে দেখলে হবে না; এর সঙ্গে মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগও যুক্ত করতে হবে। বিশেষ করে নারী, তরুণ এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে নার্সারি ও বৃক্ষভিত্তিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা গেলে পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
তিনি আরও বলেন, এবারের জাতীয় বৃক্ষমেলা ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত হয়েছে এবং প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাফল্য অর্জন করেছে।
তবে মেলায় বিক্রি হওয়া চারাগুলো যথাযথভাবে রোপণ ও পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, গাছের বেঁচে থাকা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি চারার সুরক্ষা ও নিয়মিত পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে।
সরকারের লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের বৃক্ষাচ্ছাদন ২৭ শতাংশে উন্নীত করা। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তরুণ ও যুব সংগঠনসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সম্পৃক্ত হলে এ লক্ষ্য নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জলবায়ু ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম (টিপু)। সভাপতিত্ব করেন প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসেন চৌধুরী।
প্রধান বন সংরক্ষক বলেন, বৃক্ষরোপণে আরও বেশি মানুষকে সম্পৃক্ত করতে ভবিষ্যতে পুরস্কারের সংখ্যা বাড়ানো হবে। বর্তমান প্রজন্মকে গাছের সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৫-এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি এবং বৃক্ষমেলা উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার ও সনদ দেওয়া হয়।
—জা.অর্থনীতি/আইবিএম