রাতারগুলের অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ দর্শনার্থীরা
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত দেশের একমাত্র মিঠাপানির সোয়াম্প ফরেস্ট বা জলাবন ‘রাতারগুল’ চরম পরিবেশগত ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার শিকার হচ্ছে। অপরিকল্পিত পর্যটন, অতিরিক্ত ভিড়, নজরদারির অভাব এবং অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে দিনে দিনে যেমন জলাবনটির জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে, তেমনই বাড়ছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের ভোগান্তি।

রবিবার (৯ আগস্ট) সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, ৩ হাজার ৩২৫ একরের এই বিশাল বনের ৫০৪ একর ১৯৭৩ সালে অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হলেও এখানে দৈনিক পর্যটক প্রবেশের কোনো নির্দিষ্ট ধারণক্ষমতা (‘ক্যারিং ক্যাপাসিটি’) নির্ধারণ করা হয়নি। বন বিভাগের মতে দৈনিক গড়ে ৩ থেকে ৫ শত পর্যটক এলেও স্থানীয় মাঝিদের হিসাবে ছুটির দিনগুলোতে এ সংখ্যা প্রায় ২ হাজারে গিয়ে দাঁড়ায়।

বনের ভেতরে চলাচলকারী প্রায় ২৫০টি নৌকার অনেকটিতেই পর্যটকদের নিরাপত্তায় অতি জরুরি ‘লাইফ জ্যাকেট’ ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। এ ছাড়া দুর্ঘটনাকালীন তাৎক্ষণিক উদ্ধারেও বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেই। শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত নৌকা ভাড়াকে অতিরিক্ত দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা।

অন্যদিকে রাতারগুলের অন্যতম বড় আকর্ষণ ২০১৪ সালে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ওয়াচ টাওয়ারটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় দীর্ঘ ৩ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে উঁচু স্থান থেকে পুরো জলাবনের প্যানোরামিক দৃশ্য উপভোগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পর্যটকেরা। পাশাপাশি বনের পাশ দিয়ে যাওয়া নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌকার বিকট শব্দ এবং পর্যটকদের হৈ-চৈ ও মাইকের আওয়াজে বন্যপ্রাণী ও পাখির স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

যাতায়াতের ক্ষেত্রে ২ ও ৩ নম্বর ঘাটের সরু ও খানাখন্দে ভরা সড়ক এবং পার্কিং সুবিধা না থাকায় সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দীর্ঘ যানজট লেগে থাকছে। তবে এমন ভিড়ের মাঝেও নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশের কার্যকর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। সাইনবোর্ডে দেওয়া একাধিক জরুরি হেল্পলাইন নম্বরও বন্ধ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পর্যটক প্রবেশ ফি ও টিকিট রাজস্বের সুনির্দিষ্ট তথ্যেও রয়েছে চরম অস্বচ্ছতা। বিপুল আয়তনের এই বনে মাত্র ৪ জন প্রহরী ও ১ জন বিট কর্মকর্তা কর্মরত থাকায় জনবল সংকটও প্রকট।

এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী জানান, লাইফ জ্যাকেট, অতিরিক্ত ভাড়া এবং পার্কিং সংক্রান্ত অভিযোগ পর্যালোচনাপূর্বক দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সারী রেঞ্জের বন কর্মকর্তা মো. শাহ আলম জানান, শব্দদূষণে জলজ ও বন্যপ্রাণীর বিচলিত হওয়ার বিষয়টি সত্য। তবে শিগগিরই নতুন একটি আধুনিক ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণসহ রাতারগুলের পতিত জমিতে নতুন পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এদিকে, পরিবেশবাদীরা ঐতিহ্যবাহী এই জলাবনটিকে বাঁচাতে দ্রুত 'প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা' ঘোষণা করে অনিয়ন্ত্রিত নৌযান, শব্দদূষণ ও অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি