অতিরিক্ত ওজন যেভাবে কেড়ে নিচ্ছে আপনার গভীর ঘুম

অনলাইন ডেস্ক: প্রতিদিন নিয়ম করে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানোর পরও যদি সারাক্ষণ ক্লান্তি বা অবসন্নতা অনুভব হয়, তবে তার পেছনে কেবল ঘুমের ঘাটতি নয়, বরং অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা দায়ী হতে পারে। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন অনেকের দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে। অতিরিক্ত ওজন শুধু মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা বা বাহ্যিক গঠনের ওপরই প্রভাব ফেলে না, বরং এটি ঘুমের মান, শারীরিক শক্তির মাত্রা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে অনেকেই পর্যাপ্ত সময় বিছানায় কাটালেও বা ঘুমালেও ঘুমের মান ভালো না হওয়ায় পরদিন সারাদিন অবসন্ন অনুভব করেন।

স্থূলতার কারণে গলার চারপাশে অতিরিক্ত চর্বি জমে শ্বাসনালি সংকুচিত হয়ে যেতে পারে, যার ফলে শরীরে ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ নামের একটি জটিল সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ঘুমের সময় বারবার শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টি হয়। এর ফলে দীর্ঘ সময় ঘুমন্ত অবস্থায় থাকলেও গভীর ও আরামদায়ক ঘুম নিশ্চিত হয় না এবং সকালে ঘুম ভাঙার পরও শরীরে তীব্র ক্লান্তি থেকে যায়। এর পাশাপাশি স্থূলতার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বা ক্রনিক ইনফ্ল্যামেশন এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে, যা মূলত শরীরের স্বাভাবিক শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়াকে কমিয়ে দেয়। ফলস্বরূপ সারাদিন শরীরে অবসন্নতা কাজ করে এবং মানুষের দৈনন্দিন কর্মক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়।

এই ধরনের শারীরিক জটিলতা থেকে মুক্তি পেতে দৈনন্দিন জীবনযাপনে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। খাদ্যতালিকায় প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, পূর্ণ শস্য, পর্যাপ্ত ফল ও শাকসবজি রাখার পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়েছে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শরীরচর্চা, যেমন দ্রুত হাঁটার অভ্যাস ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ঘুমের মান উন্নত করতে দারুণভাবে সহায়ক হতে পারে। এ ছাড়া নিয়মিত একই সময়ে ঘুমানো ও জেগে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং ঘুমানোর আগে মোবাইল বা অন্যান্য স্ক্রিন ব্যবহার কমানোর ওপরও চিকিৎসকরা বিশেষ জোর দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন যে, দীর্ঘদিনের এমন ক্লান্তিকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো এর সঠিক চিকিৎসা না হলে ভবিষ্যতে উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো শারীরিক ঝুঁকির পাশাপাশি মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্নতার মাত্রাও বেড়ে যেতে পারে। তাই পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি ক্লান্তি না কমে এবং এর সঙ্গে জোরে নাক ডাকা, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধির মতো লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমেই স্লিপ অ্যাপনিয়া, ডায়াবেটিস বা থাইরয়েডের মতো রোগগুলো দ্রুত শনাক্ত করে সুস্থ জীবনযাপন নিশ্চিত করা সম্ভব।
জেএ/অভি