ইবি প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সঙ্গে জাপানের ইয়ামাগুচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব এগ্রিকালচার ও রিসার্চ সেন্টার ফর থার্মোটলারেন্ট মাইক্রোবিয়াল রিসোর্সেসের মধ্যে গবেষণা সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সমঝোতা স্মারকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা জামাল এবং ইয়ামাগুচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব এগ্রিকালচারের ডিন অধ্যাপক ড. ইয়াসুওমি ইবারাকি স্বাক্ষর করেন। পরবর্তীতে ইয়ামাগুচি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেন্টার ফর থার্মোটলারেন্ট মাইক্রোবিয়াল রিসোর্সেসের পরিচালক অধ্যাপক ড. হিসাশি হোশিদাও এতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তিতে সাক্ষী হিসেবে ইবি'র বায়োটেক বিভাগের মাইক্রোবিয়াল বায়োফিল্ম অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োটেকনোলজি ল্যাবরেটরির প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিন্নাতুল করিম এবং ইয়ামাগুচি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেন্টার ফর থার্মোটলারেন্ট মাইক্রোবিয়াল রিসোর্সেসের অধ্যাপক ড. হিরোয়ুকি আজাকামি স্বাক্ষর করেন।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একাডেমিক ও শিক্ষামূলক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক গবেষণা কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে জীবপ্রযুক্তি, অণুজীববিজ্ঞান, জৈবরসায়ন, আণবিক জীববিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, বায়োইনফরমেটিকস ও কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে।
চুক্তির আওতায় উভয় প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে কাজ করবে। এছাড়া সেমিনার, কর্মশালা ও যৌথ গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়নেও তারা পারস্পরিক সহযোগিতা দেবে।
পাঁচ বছর মেয়াদি এই সমঝোতা স্মারকটি পারস্পরিক সম্মতিতে সংশোধন বা নবায়ন করা যাবে এবং এতে কোনো পক্ষের ওপর বাধ্যতামূলক আর্থিক দায় চাপানো হয়নি বলে সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানতে চাইলে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা জামাল বলেন, "এ চুক্তির মাধ্যমে আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য ল্যাব সুবিধা ব্যবহার, যৌথ গবেষণাপত্র প্রকাশ, প্রকাশনা ব্যয় বহন এবং ক্রেডিট ট্রান্সফারের মতো নতুন সুযোগ তৈরি হবে।"
তিনি আরও বলেন, "এর ফলে ইয়ামাগুচি বিশ্ববিদ্যালয়ও এ অঞ্চলে কৃষি ও লাইফ সায়েন্স বিষয়ে আমাদের সহযোগিতায় তাদের গবেষণার পরিধি বাড়াতে এবং জ্ঞান বিনিময় করতে পারবে।"
প্রক্রিয়ার বিষয়টি জানিয়ে তিনি বলেন, "আমাদের বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিন্নাতুল করিমের তিন মাসের ইয়ামাগুচি বিশ্ববিদ্যালয় সফর থেকেই এ উদ্যোগের শুরু, যা আজ দুই পক্ষের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরের মাধ্যমে সম্পন্ন হলো।"
—জা. অর্থনীতি/এলএটি
