নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: টানা দুই কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে ফের কিছুটা মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমার পাশাপাশি প্রধান সূচক ও লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। তবে লেনদেন ১ হাজার কোটি টাকার ওপরে থাকায় বাজারের সার্বিক কার্যক্রম স্থবির ছিল না।
দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬ দশমিক ২৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৯৭ দশমিক ২৭ পয়েন্টে নেমেছে। একইসঙ্গে ডিএসই-৩০ সূচক ৪ দশমিক শূন্য ৭ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২০০ দশমিক ৫০ পয়েন্ট এবং শরিয়া সূচক ১ দশমিক ৮১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৮০ দশমিক ৭৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
এদিন বাজারে দর কমার প্রবণতাও ছিল স্পষ্ট। ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৩১টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে ১১৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৫টির দাম। অর্থাৎ প্রায় ৬০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের মধ্য দিয়ে দিন শেষ হয়েছে।
লেনদেনও আগের দিনের তুলনায় কমেছে। গতকাল ডিএসইতে মোট ১ হাজার ৭৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১১৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা। ফলে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৪১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা বা প্রায় ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
লেনদেনে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ। কোম্পানিটির ৩৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এরপর মালেক স্পিনিংয়ের ৩৫ কোটি ৫৭ লাখ এবং বেক্সিমকোর ৩০ কোটি ৩৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। শীর্ষ লেনদেনের তালিকায় আরও ছিল সায়হাম টেক্সটাইল, এমএল ডাইং, সায়হাম কটন, জেএমআই হসপিটাল, পিপলস ইন্স্যুরেন্স, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট ও কুইন সাউথ টেক্সটাইল।
দর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল সায়হাম টেক্সটাইল। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশ ল্যাম্পস ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং প্রাইম ইন্স্যুরেন্স ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়েছে। বিপরীতে প্রিমিয়ার লিজিংয়ের দর ৮ শতাংশ কমে পতনের শীর্ষে ছিল। একই হারে কমেছে এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ানের দর।
বাজারের খাতভিত্তিক লেনদেনেও কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বস্ত্র খাতে প্রায় ২৬৮ কোটি টাকা। এরপর ছিল সাধারণ বিমা খাতের প্রায় ১৮২ কোটি টাকা এবং প্রকৌশল খাতের প্রায় ৬৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ সূচক কমলেও কয়েকটি খাতে লেনদেনের আগ্রহ ছিল তুলনামূলক বেশি।
মূল বাজারের পাশাপাশি ডিএসইর ব্লক মার্কেটেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে। ৪১টি কোম্পানির ৯৯ লাখের বেশি শেয়ার ১০২টি লেনদেনে হাতবদল হয়। এসব লেনদেনের আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সিটি ইন্স্যুরেন্সের ৭ কোটি ৩৩ লাখ, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ৫ কোটি ৪৮ লাখ এবং মালেক স্পিনিংয়ের ৩ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দিনশেষে সিএএসপিআই সূচক প্রায় ৩৯ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৮২৮ পয়েন্টে অবস্থান করলেও লেনদেন নেমে এসেছে ১৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকায়। এদিন ২৩৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯২টির দর বেড়েছে, কমেছে ১১৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩১টির।