দর সংশোধনে সূচকের পতন লেনদেন হাজার কোটির নিচে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে লেনদেনের শুরুতে ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিক্রিচাপের কারণে দরপতনে লেনদেন শেষ করেছে দেশের শেয়ারবাজার। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমার পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। তবে কয়েকটি নির্দিষ্ট শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তায় বাজারে ৯০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে।

দিনের শুরুতে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ছিল। প্রথম দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সূচকও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। কিন্তু দুপুরের পর বিক্রিচাপ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি বদলে যায়। শেষ পর্যন্ত ডিএসইতে ১৩৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, কমেছে ১৮২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৭০টির।

দরপতনের এই প্রবণতা তুলনামূলক ভালো কোম্পানিতেও ছিল। ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬৯টির দাম বাড়লেও কমেছে ৯৯টির। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া মাঝারি মানের কোম্পানির ২৫টির দাম বাড়ার বিপরীতে কমেছে ৪২টির। তবে ‘জেড’ শ্রেণির কোম্পানিতে দাম বাড়া ও কমার সংখ্যা ছিল সমান ৪১টি করে।

ফলে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৮৩ পয়েন্টে নেমেছে। ডিএসই-৩০ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৯২ পয়েন্ট এবং ডিএসই শরিয়া সূচক ৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৭৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

সূচকের পাশাপাশি লেনদেনও কমেছে। এদিন ডিএসইতে মোট ৯২৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে যা আগের দিনের ১ হাজার ৭৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকার চেয়ে ১৪৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বা প্রায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ কম।

খাতভিত্তিক লেনদেনেও একই ধরনের সতর্কতা দেখা গেছে। ডিএসইর হিসাবে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বস্ত্র খাতে যা প্রায় ২২৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা। আগের দিনের তুলনায় এ খাতের লেনদেন কমেছে প্রায় ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ। সাধারণ বিমা খাতে লেনদেন হয়েছে প্রায় ১৫০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা যা কমেছে ১১ দশমিক ৮ শতাংশ। প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয়েছে প্রায় ৭১ কোটি ৩১ লাখ টাকা, তবে এ খাতে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।

ব্যাংক খাতেও লেনদেনে বড় সংকোচন দেখা গেছে। ৩৬টি ব্যাংকের শেয়ারে লেনদেন হয়েছে প্রায় ৭০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, আগের দিনের তুলনায় যা ৩৪ দশমিক ১ শতাংশ কম। জীবন বিমা খাতে লেনদেন কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ এবং জুট খাতে ৫৭ দশমিক ৭ শতাংশ। বিপরীতে টেলিযোগাযোগ খাতে লেনদেন বেড়েছে উল্লেখযোগ্য ২৬৫ দশমিক ৮ শতাংশ।

বাজার মূলধনের চিত্র অবশ্য পুরোপুরি নেতিবাচক ছিল না। বস্ত্র খাতে বাজার মূলধন বেড়েছে প্রায় শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে শূন্য দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতে শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ বেড়েছে। তবে জীবন বিমা ও সিরামিক খাতে বাজার মূলধন প্রায় শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ করে কমেছে।

লেনদেনে সবচেয়ে সক্রিয় ছিল শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ। কোম্পানিটির ৩৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এরপর সায়হাম টেক্সটাইলের ২৬ কোটি ২ লাখ এবং মালেক স্পিনিংয়ের ২৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। এছাড়া বেক্সিমকো, ফারইস্ট নিটিং, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, এমএল ডাইং ও ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং ছিল শীর্ষ লেনদেনে।

এদিন ব্লক মার্কেটেও ৩৯টি কোম্পানির ২৪ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের ৫ কোটি ৫৩ লাখ, ডমিনেজের ৩ কোটি ৮৬ লাখ এবং এমএল ডাইংয়ের ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচক কমেছে ২৪ পয়েন্ট। তবে সেখানে লেনদেন বেড়ে ৪৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা হয়েছে, আগের দিন যা ছিল ১৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। ফলে দুই বাজারের চিত্রে সূচকের দিক থেকে দুর্বলতা থাকলেও লেনদেনের প্রবণতায় পার্থক্য ছিল।