অনলাইন ডেস্ক: নগদ টাকার বদলে কার্ডে ঝুঁকছে মানুষ। গত পাঁচ বছরে দেশে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জুলাইয়ে ২ কোটি ৬৩ লাখ কার্ড থেকে ২০২৬ সালের জুনে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ১৭ লাখে—প্রায় ৯৭ শতাংশ বৃদ্ধি।
একই সময়ে কার্ডে লেনদেনও বেড়েছে ৯১ শতাংশ। ২০২১ সালের জুলাইয়ে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৯৭১ মিলিয়ন টাকা থেকে চলতি বছরের জুনে তা বেড়ে হয়েছে ৪ লাখ ৪৮ হাজার ১২৮ মিলিয়ন টাকা। অর্থাৎ পাঁচ বছরে কার্ডভিত্তিক লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে ৯১ শতাংশ।
কার্ডের ধরনভেদেও ব্যবহারে এসেছে বড় পরিবর্তন। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ডেবিট কার্ডের সংখ্যা পাঁচ বছরে ৭০ শতাংশ বেড়ে ২ কোটি ৩৬ লাখ থেকে ৪ কোটি ২ লাখে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে ডেবিট কার্ডে লেনদেন বেড়েছে ৭৮ শতাংশ।
ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যাও ৫৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে লেনদেনে প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি—পাঁচ বছরে বেড়েছে ২৮৮ শতাংশ।
সবচেয়ে বড় প্রবৃদ্ধি এসেছে প্রিপেইড কার্ডে। ২০২১ সালের জুলাইয়ের ৯ লাখ ৫৪ হাজার থেকে ২০২৬ সালের জুনে সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮৬ লাখ ৯৬ হাজার। অর্থাৎ পাঁচ বছরে প্রিপেইড কার্ড বেড়েছে ৮১১ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে কার্ডের সংখ্যা ও লেনদেন বাড়ার অনেকগুলো কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যাশলেস ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগ ও ‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেম অ্যাক্ট, ২০২৪’ ডিজিটাল লেনদেনের ভিত্তি শক্ত করেছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন ছাড় ও প্রচারণা, নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে কার্ডের ব্যবহার এবং নগদের তুলনায় কার্ডের সুবিধাজনক ও নমনীয় ব্যবহারের কারণে চাহিদা বেড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কার্ডভিত্তিক লেনদেন বাড়ায় আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থায় মানুষের অংশগ্রহণও বাড়ছে। নগদের ওপর নির্ভরতা কমায় লেনদেনে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। কার্ডভিত্তিক লেনদেনের এই প্রবৃদ্ধি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তারেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তবে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও গ্রাহক সচেতনতা বাড়ানো গেলে দেশে ক্যাশলেস লেনদেন আরও দ্রুত বাড়বে।
ই-কমার্স, অনলাইন কেনাকাটা, ইউটিলিটি বিল ও আন্তর্জাতিক পেমেন্টে কার্ডের ব্যবহার বাড়ায় ক্যাশলেস লেনদেনে গতি এসেছে। রাইড শেয়ারিং, অ্যাপ সাবস্ক্রিপশন ও অ্যাড মানিতেও কার্ডের ব্যবহার বাড়ছে। তরুণদের মধ্যে এনএফসি বা স্পর্শহীন লেনদেনও জনপ্রিয় হচ্ছে।
তবে গ্রাম ও মফস্বলে পস মেশিনের স্বল্পতা এখনো বড় বাধা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে নেটওয়ার্কে যুক্ত করা, সার্ভিস চার্জ কমানো ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে ক্যাশলেস অর্থনীতি আরও বিস্তৃত হবে।
কার্ডের ব্যবহার বাড়ছে, কমছে নগদের ওপর নির্ভরতা। কিন্তু শহর থেকে গ্রাম—সব শ্রেণির মানুষ কি সমানভাবে পৌঁছাতে পারছে ক্যাশলেস সুবিধার আওতায়? নাকি ডিজিটাল লেনদেনের এই অগ্রযাত্রায় এখনো রয়ে গেছে বড় একটি অংশের দূরত্ব? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।