বিক্রির চাপে সূচকের পতন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ফের বিক্রির চাপ বেড়েছে। লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমায় প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ২৪ পয়েন্ট কমেছে। বাজারের সার্বিক অংশগ্রহণের চিত্রও ছিল নেতিবাচক। 

গতকাল রোববার দিনশেষে ডিএসইএক্স ২৩ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট বা দশমিক ৪১ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৯৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের কার্যদিবস সূচকটি ৫ হাজার ৮৮৩ দশমিক ৯১ পয়েন্ট ছিল। ফলে এক কার্যদিবসে সূচক কমেছে প্রায় ২৪ পয়েন্ট।

একই সঙ্গে ডিএসইএস সূচক ৫ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট বা দশমিক ৪৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ১৭১ দশমিক ৩৭ পয়েন্টে নেমেছে। ডিএস৩০ সূচকও ৮ দশমিক ৫১ পয়েন্ট বা দশমিক ৩৯ শতাংশ কমে ২ হাজার ১৮৪ দশমিক ২২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এ দিন লেনদেন হওয়া মোট ৩৯০টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের ইস্যুর মধ্যে ২৪৭টির দর কমেছে, যা মোট লেনদেনের প্রায় ৬৩ শতাংশ। বিপরীতে দর বেড়েছে ১০২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪১টির।

অর্থাৎ দর কমা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় আড়াই গুণ। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, সূচকের পতন শুধু কয়েকটি বড় মূলধনি কোম্পানির দরপতনের কারণে হয়নি। বরং বাজারের বিস্তৃত অংশেই বিক্রির চাপ ছিল।

‘এ’ ক্যাটাগরিতেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। এই শ্রেণির ১৯৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৫টির দর কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে ৫৯টির। ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৭৩টির মধ্যে ৬২টির এবং ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ১১৮টির মধ্যে ৬০টির দর কমেছে।

মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারও ছিল দুর্বল। ৩৪টি ফান্ডের মধ্যে ২৪টির দর কমেছে, যেখানে দর বেড়েছে মাত্র ছয়টির। অপরিবর্তিত ছিল চারটি।
বাজারে দরপতন হলেও লেনদেনের পরিমাণ আগের কার্যদিবসের তুলনায় বেড়েছে। রোববার ডিএসইতে মোট ২ লাখ ৮১ হাজার ৬৬৫টি লেনদেন হয়েছে। লেনদেনে ৩৬ কোটি ২২ লাখ ৭৩ হাজার ৭৭টি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৩০ কোটি ৭৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা।

১৩ আগস্ট ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৯২৫ কোটি ৬৬ লাখ ৯২ হাজার টাকা। সেই হিসাবে এক কার্যদিবসে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ২০৫ কোটি টাকা বা ২২ শতাংশের বেশি।

তবে লেনদেন বৃদ্ধির সঙ্গে সূচক কমে যাওয়াকে বাজারের শক্তিশালী ক্রয়চাপের ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। বরং অধিকাংশ শেয়ারের দর কমার মধ্যে লেনদেন বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিক্রেতাদের সক্রিয়তা বেড়েছে এবং সেই বিক্রির বিপরীতে ক্রেতাদের অংশগ্রহণও তৈরি হয়েছে।

মূল বাজারের পাশাপাশি ব্লক মার্কেটেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে। দিনটিতে ৪৪টি সিকিউরিটিজে ১০৭টি ব্লক লেনদেনের মাধ্যমে মোট ১ কোটি ৫ লাখ ৭ হাজার ১৪৬টি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। এসব লেনদেনের মোট মূল্য ৫৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

ব্লক মার্কেটের মোট লেনদেনে কয়েকটি কোম্পানির আধিপত্য ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকে। কোম্পানিটির ১৮ লাখ ৯৭ হাজার শেয়ার ১৯টি লেনদেনে ১২ কোটি ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকায় হাতবদল হয়েছে।

দরপতনের প্রভাবে ডিএসইর বাজার মূলধনও কিছুটা কমেছে। রোববার দিনশেষে মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭০ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইকুইটি সিকিউরিটিজের বাজার মূলধন ৩৬ লাখ ৪১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা এবং মিউচুয়াল ফান্ডের বাজার মূলধন ৩২ হাজার ৭১৪ কোটি টাকা। 

তবে লেনদেনের দিক থেকে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। ৯ আগস্ট যেখানে লেনদেন ছিল ৯৬৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, ১৩ আগস্ট তা নেমে আসে ৯২৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকায়। রোববার আবার তা ১ হাজার ১৩০ কোটি ৭৭ লাখ টাকায় উঠেছে। অর্থাৎ বাজারে লেনদেনের আগ্রহ ফিরলেও সেটি এখনও সূচককে ঊর্ধ্বমুখী করার মতো শক্তিশালী ক্রয়চাপে রূপ নেয়নি।