উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় পুঁজিবাজারে পতনের ধারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: মার্জিন ঋণের নিয়মে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে অনিশ্চয়তা, দুর্বল করপোরেট আয় ও বিভিন্ন গুঞ্জনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে টানা চতুর্থ দিন দেশের পুঁজিবাজারে দরপতন হয়েছে। 


গতকাল সোমবার টাকার পুঁজিবাজারের সাধারণ সূচক কমেছে শূন্য দশমিক ৭৮ শতাংশ; আর চট্টগ্রামেও কমেছে শূন্য দশমিক ৭। মার্জিন ঋণের নিয়ম নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা অংশ সতর্ক অবস্থানে থাকবেন বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। 

গত বুধবার থেকে টানা চার কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৮৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪১ শতাংশ। এরমধ্যে গতকাল ৪৫ পয়েন্টের বেশি কমে ৫ হাজার ৮১৪ দশমিক ২৭ পয়েন্টে নেমেছে। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমেছে ২০৪ দশমিক ১৭ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২৯ শতাংশ। কেবল সোমবার ১১১ দশমিক ২ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৬২৪ পয়েন্টে নেমেছে।

গতকাল দিনের শুরু থেকেই বাজারে বিক্রির চাপ ছিল। মাঝামাঝি সময়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছু শেয়ার কেনার আগ্রহ দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থায়ী হয়নি। দিন শেষে অধিকাংশ শেয়ারের দর কমেছে। ডিএসইতে হাতবদল হওয়া ৩৯৫টি কোম্পানির মধ্যে মোট ৩১২টি বা প্রায় ৮০ শতাংশের দর কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে ৫৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩০টির দর।

ডিএসইর অন্য সূচকগুলোরও পতন হয়েছে। ডিএসইএস ৩০ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং ডিএস৩০ সূচক ১১ দশমিক ৩০ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ কমেছে। মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৯৯৫ কোটি টাকা, আগের কার্যদিবসে যা ছিল প্রায় ১ হাজার ১৩১ কোটি টাকা।

খাতভিত্তিক লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল বস্ত্র খাতের। দিনের লেনদেনে এই খাতের অবদান ২১ দশমিক ৩ শতাংশ। এরপর সাধারণ বিমা খাতের অবদান ১৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং প্রকৌশল খাতের ১১ শতাংশ। দরপতনে এগিয়ে ছিল মিউচুয়াল ফান্ড, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, টেলিযোগাযোগ, ব্যাংক এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত।

মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি ছিল। মোট ৩৪টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩২টির দর কমেছে, বেড়েছে মাত্র একটির এবং অপরিবর্তিত ছিল একটির দর। করপোরেট বন্ডের দুটির মধ্যে দুটিরই দর কমেছে। সরকারি সিকিউরিটিজে পাঁচটির মধ্যে চারটির দর কমেছে এবং একটির দর বেড়েছে।

বাজার মূলধনেও এর প্রভাব পড়েছে। দিনশেষে ইকুইটি বাজারের মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩৬ লাখ ১৫ হাজার ৬৫৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে এ মূলধন ছিল ৩৬ লাখ ৪১ হাজার ১১৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ একদিনে ইকুইটি বাজারের মূলধন কমেছে প্রায় ২৫ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা। মিউচুয়াল ফান্ডের বাজার মূলধনও ৩ হাজার ২৭১ কোটি ৪০ লাখ টাকা থেকে কমে ৩ হাজার ১৭০ কোটি ৬০ লাখ টাকায় নেমেছে।

ব্লক মার্কেটেও আগের দিনের তুলনায় কার্যক্রম কমেছে। গতকাল ৩২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার নিয়ে মোট ৫৭টি ব্লক লেনদেন হয়েছে। এসব লেনদেনে মোট ৫১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৫টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যার বাজারমূল্য ছিল ২৫ কোটি ৫৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। আগের কার্যদিবসে ৪৪টি সিকিউরিটিজের ১০৭টি ব্লক লেনদেনে ৫৫ কোটি ১৯ লাখ ৮৩ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে ব্লক মার্কেটের লেনদেন প্রায় ২৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা কমেছে।

গতকাল ডিএসইর অন্য দুই সূচকের মধ্যেও ছিল নিম্নমুখী প্রবণতা। ডিএসই শরিয়া সূচক (ডিএসইএস) ১৩ দশমিক ৬১ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ১৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ১৫৭ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে নেমেছে। ডিএস৩০ সূচক কমেছে ৮ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ। দিনশেষে এ সূচকের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৭৫ দশমিক ৬৬ পয়েন্টে।