তৃতীয় ভাষা হিসেবে ৮ দেশের ভাষা শেখাবে ৩০ বিশ্ববিদ্যালয়

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষায় দক্ষ করে তুলতে দেশের ৩০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। তৃতীয় ভাষা হিসেবে আরবি, চীনা, জাপানি, কোরীয়, ফরাসি, জার্মান, স্প্যানিশ ও ইতালীয়—এই আটটি ভাষা শেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে এ কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ভাষা শেখানো হবে না। কোন অঞ্চলে কোন ভাষার চাহিদা বেশি, স্থানীয় জনগণের আগ্রহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা এবং দেশি-বিদেশি শ্রমবাজারের সম্ভাবনা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ভাষা নির্বাচন করা হবে। প্রাথমিকভাবে আরবি, জাপানি, কোরীয়, চীনা ও ইতালীয় ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বুধবার ইউজিসিতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সভায় কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এসব তথ্য জানান।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের চাহিদা বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভাষাগত ও পেশাগত দক্ষতা বাড়বে, আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সক্ষমতা তৈরি হবে এবং দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

শ্রমবাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে ভাষা নির্বাচন

কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ভাষা চালু হবে, তা নির্ধারণে বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর তথ্যসহ বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হবে। কোন অঞ্চলে কোন ভাষার দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বেশি, তা চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় ও ভাষা নির্বাচন করা হবে।

দেশের আট বিভাগের কোনো অঞ্চল যাতে কর্মসূচির বাইরে না থাকে, সে লক্ষ্যেও কাজ করছে ইউজিসি। বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, ভাষা নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় রিসোর্স ও লোকেশন ম্যাপিংয়ের জন্য গঠিত কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা অথবা বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ও অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা হবে। বর্তমানে দেশের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাধিক ১৩টি ভাষা শেখার সুযোগ রয়েছে।

নতুন কর্মসূচিতে দক্ষ প্রশিক্ষক তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষক দল গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ভাষা বিশেষজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া আধুনিক ভাষা ল্যাব, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা উপকরণ এবং প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো গড়ে তুলতে ইউজিসি সহযোগিতা করবে। ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রগুলো যাতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত না হয় এবং শিক্ষার্থীরা সাশ্রয়ী ব্যয়ে মানসম্পন্ন শিক্ষা পায়, তা নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছে কমিশন।

শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী নয়, নীতিমালার আওতায় আগ্রহী অন্যান্য ব্যক্তিরাও সাশ্রয়ী মূল্যে এসব ভাষা শেখার সুযোগ পাবেন।

কার্যক্রমের সুষ্ঠু ও টেকসই বাস্তবায়নে ভাষা নির্বাচন, কোর্স পরিচালনা, প্রশিক্ষক নিয়োগ ও উন্নয়ন, শিক্ষার মান, অবকাঠামো, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কেন্দ্রগুলোর তদারকির জন্য একটি অভিন্ন নীতিমালা ও পরিচালন কাঠামো প্রণয়ন করবে ইউজিসি।

—জা.অর্থনীতি/আরএস