নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: টানা কয়েক কার্যদিবসের দরপতনের পর গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের পুঁজিবাজারে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। একইসঙ্গে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্সও বেড়েছে। তবে লেনদেনের পরিমাণ আগের কার্যদিবসের তুলনায় কমে যাওয়ায় বাজারে ক্রয় চাপের শক্তি নিয়ে কিছুটা সতর্ক থাকার অবকাশ রয়েছে।
দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৬ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৭৮৬ দশমিক ০৮ পয়েন্টে অবস্থান নেয়। আগের কার্যদিবসে সূচকটি ৩ দশমিক ৯২ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ০৭ শতাংশ কমেছিল। ফলে একদিনের ব্যবধানে সূচকের গতিপথ ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
অন্যদিকে ডিএসই শরিয়া সূচক (ডিএসইএস) ৪ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৫৬ দশমিক ১২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে বাছাই করা ৩০ কোম্পানির সূচক ডিএস৩০ শূন্য দশমিক ৪৫ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ০২ শতাংশ কমে ২ হাজার ১৬২ দশমিক ৫২ পয়েন্টে নেমেছে। অর্থাৎ সামগ্রিক বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও বড় মূলধনি কিছু শেয়ারে তেমন শক্তিশালী ক্রয় চাপ তৈরি হয়নি।
গতকাল ডিএসইতে মোট ৩৯০টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৯২টির দর বেড়েছে, কমেছে ১২৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৭১টির। অর্থাৎ দর বাড়ার তালিকায় থাকা কোম্পানির সংখ্যা দর কমা কোম্পানির তুলনায় ৬৫টি বেশি।
বিশেষ করে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে বাজারের ইতিবাচক চিত্রটি স্পষ্ট হয়েছে। এ ক্যাটাগরির ১৯৮টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ১১৯টির দর বেড়েছে, ৫২টির কমেছে এবং ২৭টি অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ এ ক্যাটাগরিতে প্রায় ৬০ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে।
আগের কার্যদিবসে মোট লেনদেন হয়েছিল ৭৩২ কোটি ৮৩ লাখ ১৮ হাজার টাকা। সে হিসাবে এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে প্রায় ৬১ কোটি টাকা বা ৮ শতাংশের বেশি। একইসঙ্গে লেনদেনের সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৮২০টি এবং শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ কমেছে প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ।
অর্থাৎ সূচক ও বাজার প্রস্থে ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও বাজারে অর্থের প্রবাহ এখনও আগের দিনের তুলনায় দুর্বল। এ কারণে বৃহস্পতিবারের উত্থানকে এখনই শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার নিশ্চিত সংকেত হিসেবে দেখার সুযোগ কম।
মূল বাজারের পাশাপাশি ব্লক মার্কেটেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে। দিনটিতে ২৭টি কোম্পানির শেয়ার নিয়ে মোট ৮৪টি ব্লক লেনদেন হয়েছে। এসব লেনদেনে মোট ৮৫ লাখ ২০ হাজার ৬৬০টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। আর ব্লক মার্কেটে লেনদেনের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪১ কোটি ৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকা।
গত বৃহস্পতিবারের বাজারকে তিনটি সূচকে দেখা যায়। প্রথমত, বাজার প্রস্থ ইতিবাচক। ১৯২টি শেয়ারের দর বাড়ার বিপরীতে কমেছে ১২৭টির। বিশেষ করে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে দর বাড়ার হার উল্লেখযোগ্য।
দ্বিতীয়ত, সূচক ঘুরে দাঁড়ালেও গতি খুব বেশি নয়। ডিএসইএক্স বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ। ডিএসইএসের উত্থান কিছুটা বেশি হলেও ডিএস৩০ প্রায় অপরিবর্তিত থেকেছে। অর্থাৎ বাজারের সার্বিক ইতিবাচকতা বড় মূলধনি শেয়ারজুড়ে সমানভাবে ছড়ায়নি।
তৃতীয়ত, লেনদেনের সংকোচন গুরুত্বপূর্ণ। আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ কম লেনদেনের মধ্যে সূচক বেড়েছে। এর অর্থ হতে পারে, তুলনামূলক কম লেনদেনের মধ্যেই কিছু শেয়ারে দর বৃদ্ধির মাধ্যমে সূচককে ঊর্ধ্বমুখী করা হয়েছে। ফলে পরবর্তী কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ বাড়ে কিনা এবং একইসঙ্গে বাড়তি সংখ্যক শেয়ারের দর ঊর্ধ্বমুখী থাকে কিনা, সেটিই বাজারের এই ঘুরে দাঁড়ানোর স্থায়িত্ব বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হবে।
সামগ্রিকভাবে বৃহস্পতিবারের বাজারে দরপতনের ধারার মধ্যে একটি স্বস্তির বিরতি দেখা গেছে। তবে লেনদেনের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং ডিএস৩০ সূচকের সামান্য পতন বলছে, বাজারে এখনও শক্তিশালী ও সর্বব্যাপী ক্রয়চাপ তৈরি হয়নি। তাই পরবর্তী কার্যদিবসের লেনদেন ও বাজারপ্রস্থই এই উত্থানকে সাময়িক পুনরুদ্ধার নাকি নতুন ঊর্ধ্বমুখী ধারার সূচনা, তা নির্ধারণে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) লেনদেনে আগের দিনের তুলনায় কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার সিএসইতে মোট ১ হাজার ৬২৫টি লেনদেন হয়েছে। এদিন ৫২ লাখ ৮৫ হাজার ১৮৪টি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। এসব লেনদেনের আর্থিক মূল্য ছিল ১৮ কোটি ৯০ লাখ ৩ হাজার ৪১০ টাকা।
বাজারের প্রধান সূচকগুলোর মধ্যে সিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের ১৩ হাজার ৮৭৭ দশমিক ০১ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ১৩ হাজার ৮৭৭ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে উঠেছে। অর্থাৎ সূচকটি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৯২ পয়েন্ট। অন্যদিকে সিএসইএক্স সূচক আগের দিনের ৯ হাজার ৪৪৫ দশমিক ২৮ পয়েন্ট থেকে কমে ৯ হাজার ৪৩০ দশমিক ৭০ পয়েন্টে নেমেছে। একইভাবে সিএএসপিআই সূচক ১৫ হাজার ৪৯৪ দশমিক ১২ পয়েন্ট থেকে কমে ১৫ হাজার ৪৯১ দশমিক ৪৩ পয়েন্টে অবস্থান করেছে।
তুলনামূলকভাবে আগের দিন গত বুধবার সিএসইতে ১ হাজার ৮৯৬টি লেনদেন হয়েছিল এবং ৫৪ লাখ ৮৯ হাজার ৬৯০টি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়। ওইদিন লেনদেনের মূল্য ছিল ৩৭ কোটি ৩১ লাখ ৪০ হাজার ২৬ টাকা। ফলে এক কার্যদিবসের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেনের সংখ্যা ও লেনদেনের আর্থিক মূল্য উভয়ই কমেছে।