নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘World Heritage Nomination Process’ শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনার।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সেমিনার হলে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা, আর সভাপতিত্ব করেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সাবিনা আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব কানিজ মওলা বলেন, একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উচিত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ গবেষকদের নিয়ে একটি ডাটাবেজ তৈরি করা। তিনি পরামর্শ দেন, এই তালিকায় প্রতিষ্ঠান থেকে অবসরপ্রাপ্ত এবং হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জনকারীদের যোগ্যতাকেও যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা দরকার, যাতে তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অধিদপ্তরের সার্বিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা যায়। পাশাপাশি সারা দেশে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন মৌসুমে নিয়োজিত অদক্ষ স্থানীয় শ্রমিকদের একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরিরও নির্দেশ দেন তিনি, যাতে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের দক্ষ খননকর্মীতে রূপান্তর করে দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণাকে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়।
সভাপতির বক্তব্যে মহাপরিচালক সাবিনা আলম বলেন, সংস্কৃতিমন্ত্রীকে প্রধান করে অ্যাডভাইজরি কমিটি পুনর্গঠন এবং প্রত্নতাত্ত্বিক আইন সংশোধন করা গেলে বাফার জোন-কোর জোনসহ অনেক দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান সম্ভব হতো। তিনি জানান, এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৫০০টি স্থানকে জরিপ ও অনুসন্ধানের প্রাথমিক তালিকায় এবং ৫৫৪টি স্থানকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সম্ভাব্য বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ পুরাকীর্তিগুলোর জন্য একটি ‘ন্যাশনাল ইনভেন্টরি লিস্ট’ তৈরির ওপরও জোর দেন তিনি।
মহাপরিচালক আরও জানান, প্রত্নতাত্ত্বিক খননের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের একটি তালিকা ইতিমধ্যে তৈরি করা হয়েছে। তবে তিনি মন্তব্য করেন, সমন্বিত উদ্যোগ ও পরিকল্পনা ছাড়া অপেক্ষাকৃত ছোট এই অধিদপ্তরের একার পক্ষে ঐতিহ্য সংরক্ষণের মতো বিশাল দায়িত্ব পালন করা কঠিন।
সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রকাশনা) ড. মো. আতাউর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও হেরিটেজ বিশেষজ্ঞ ড. শরীফ শামস্ ইমন, আর প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও হেরিটেজ বিশেষজ্ঞ স্থপতি ড. হাবিব রেজা।
সেমিনারে অংশ নেওয়া বক্তারা বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া, এর নানা চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
—জা.অর্থনীতি/আরএস