শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনে ‘এমব্রায়োনিক শিফটস’

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে জীবনের নানা দিক তুলে ধরে রাজধানীতে শুরু হয়েছে ‘এমব্রায়োনিক শিফটস (রূপান্তর)’ শীর্ষক ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শনী। প্রদর্শনীতে ভ্রূণের বিকাশ ও কোষীয় প্রক্রিয়ার মতো জটিল বৈজ্ঞানিক বিষয়কে শিল্পের মাধ্যমে সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর আলোকির ‘শালা নেইবারহুড আর্ট স্পেস’-এ প্রদর্শনীটির উদ্বোধন করা হয়। ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড (ওয়াও) বাংলাদেশ ২০২৬’ কর্মসূচির সহায়তায় আয়োজিত প্রদর্শনীটি চলবে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত। প্রতিদিন দুপুর ১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। দর্শনার্থীরা বিনা মূল্যে প্রদর্শনীটি দেখতে পারবেন।

প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণ বড় আকারের একটি জ্যোট্রোপ। কোনো পর্দা, চলচ্চিত্র বা ডিজিটাল প্রজেকশনের ব্যবহার ছাড়াই ঘূর্ণনের মাধ্যমে এতে চলমান দৃশ্যের ভ্রম তৈরি হয়। আলো, গতি ও যান্ত্রিক কাঠামোর সমন্বয়ে তৈরি এ শিল্পকর্মে প্রযুক্তি ও প্রকৌশলের সঙ্গে শিল্পকলার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।

‘দৃষ্টির স্থায়িত্ব’ নিয়ে গবেষণাভিত্তিক শিল্পচর্চা থেকেই প্রকল্পটির ধারণার সূত্রপাত। স্থির ছবিকে দ্রুত ঘোরানোর ফলে চোখে চলমান দৃশ্যের যে ভ্রম তৈরি হয়, সেই ধারণাকে কাজে লাগিয়ে শিল্পকর্মটি তৈরি করা হয়েছে।

কড়াইলের তরুণদের অংশগ্রহণ, গবেষণা ও কারিগরি কাজের মাধ্যমে কোষীয় প্রক্রিয়া এবং ভ্রূণের বিকাশের মতো জটিল বিষয়কে দৃশ্যমান করা হয়েছে। এতে জটিল একাডেমিক পরিভাষা এড়িয়ে প্রমাণভিত্তিক বিজ্ঞানকে সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি মানুষের পরিচয়, আত্মোপলব্ধি ও বৈচিত্র্যের বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে।

ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ডেপুটি ডিরেক্টর মারিয়া রেহমান বলেন, ‘এমব্রায়োনিক শিফটস’ শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। আত্মপরিচয় ও বৈচিত্র্যকে তুলে ধরার বিষয়টি ‘উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর মূল ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ নারী, কিশোরী ও তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে উৎসাহিত করবে।

প্রকল্পটির গল্প ও ভিজ্যুয়াল নকশা করেছেন বহুমাত্রিক শিল্পী ও অ্যানিমেটর সায়কা শবনম চৌধুরী। এর যান্ত্রিক কাঠামো ও নির্মাণকাজের দায়িত্বে ছিলেন ফ্যাব একাডেমির সাবেক শিক্ষার্থী সামিউল হক।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ম্যাকান, পারা এবং শালা নেইবারহুড আর্ট স্পেস সহযোগিতা করেছে। আয়োজকদের মতে, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও মানবিকতার নানা দিককে একসঙ্গে তুলে ধরার পাশাপাশি দর্শকদের কৌতূহল ও নতুনভাবে ভাবার সুযোগ করে দেবে এ প্রদর্শনী।

—জা.অর্থনীতি/আরএস