জনগণের জীবনযাত্রায় চাপ সৃষ্টি করা যুদ্ধেরই অংশ: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জনগণের জীবিকা ও নিরাপত্তাকে লক্ষ্য করে যে কোনো ধরনের চাপকে যুদ্ধের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ ইবন আল রেজা।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের কাছে অর্থনীতি, জনগণের স্বস্তি ও কল্যাণ এবং নিরাপত্তা সবই প্রতিরক্ষার অংশ।

তিনি বলেন, জনগণের জীবিকা ও নিরাপত্তাকে লক্ষ্য করে যেকোনো চাপই যুদ্ধের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, যারা চাপের ক্ষেত্র বিস্তৃত করবে, তাদের জানা উচিত যে জনগণের সুরক্ষায় ইরানও জাতীয় স্বার্থের কাঠামোর মধ্যে তার প্রতিরক্ষার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করবে।

যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নেওয়ার পরেই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ ইবন আল রেজা এই মন্তব্য করলেন।

এর আগে সোমবার সকালেই ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখা সব ধরনের বাণিজ্যিক ও আর্থিক পথ বন্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নতুন এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন নিষেধাজ্ঞায় প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো, ইরানের তেল বিক্রির আয় কমানো। ইরানের ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেন কঠিন করা। নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজ ও নেটওয়ার্ক বন্ধ করা। ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির অর্থ ও প্রযুক্তির জোগান বন্ধ করা। ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা তৃতীয় পক্ষগুলোকেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা।

একই সঙ্গে জাহাজ চলাচল, সোনা, বিমান পরিবহন, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সম্পদ খাতেও বাড়ানো হয়েছে ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ বা পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা।

বেসেন্ট বলেন, তেহরান সরকারকে টিকিয়ে রাখা প্রতিটি অর্থনৈতিক পথ বন্ধ করাই এই অভিযানের লক্ষ্য। ইরানকে শেষ পর্যন্ত একা করে দিতে চান তারা। এ জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের নেতাদের ফোন করে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধের বিষয়ে নির্দিষ্ট অনুরোধ জানাচ্ছেন। তবে কোন কোন দেশকে তিনি এ বিষয়ে বলেছেন বা কোনো সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন কি না, তা জানাননি বেসেন্ট।

সূত্র : আইআরএনএ

—জা.অর্থনীতি/জেআরটি