জনবল সংকটে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত, বাড়ছে অনিয়মের শঙ্কা
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলখ্যাত নিকলী উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ শূন্য থাকায় সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রমে মারাত্মক ধীরগতি দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে, যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত সেবাপ্রদান এবং প্রশাসনিক তদারকি।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিকলীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং কয়েকটি ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তার পদসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা রয়েছে। গত ২ আগস্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) বদলি হওয়ার পর তার দায়িত্ব নেন তদানীন্তন ইউএনও রেহানা মজুমদার। পরবর্তীতে ২৫ আগস্ট তিনিও বদলি হলে বর্তমানে বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকলীর ইউএনও ও এসিল্যান্ডের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এতে দুই উপজেলার প্রশাসনিক দায়িত্ব একসাথে সামলাতে গিয়ে স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজে চরম চাপ তৈরি হচ্ছে।

এ ছাড়া দামপাড়া ও জারইতলা ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তার পদ ফাঁকা থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্বে চলছে দাপ্তরিক কাজ। ফলে নামজারি, খতিয়ান সংশোধন ও রাজস্ব আদায়সহ ভূমি-সংক্রান্ত মৌলিক সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

প্রশাসনিক ও তদারকি দুর্বলতার সুযোগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ একটি অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের। নিকলী থানায় গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় হাওরের প্রাকৃতিক সম্পদ অবৈধভাবে দখল, নদী কেটে বালু উত্তোলন ও এলাকা ভরাট করার মতো অনিয়ম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জনবসতিকে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে ফেলছে। একই সঙ্গে মাদক কারবারসহ নানাবিধ অবৈধ কর্মকাণ্ড বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন এলাকাবাসী। অনতিবিলম্বে এসব শূন্য পদে স্থায়ী কর্মকর্তা পদায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, "খুব শিগগিরই নিকলীর শূন্য পদগুলোতে প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা পদায়ন করা হবে।"

—জা. অর্থনীতি/এলএটি