আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চরম বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ সরিয়ে যুক্তরাজ্যে স্থানান্তর করেছে নেদারল্যান্ডস। ডাচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ডিএনবি) তথ্যমতে, স্থানান্তরিত এই স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি।
সম্প্রতি এক বিবৃতিতে ডাচ কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ভবিষ্যৎ তীব্র ঝুঁকি ও জটিল সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার এবং স্বর্ণকে আরও সহজে ব্যবহারযোগ্য বা লেনদেনযোগ্য (ট্রেডেবল) করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। লন্ডন আন্তর্জাতিক স্বর্ণ বাজারের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে রাখা সোনা যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবহার করা সম্ভব।
নতুন এই পুনর্বিন্যাসের পর নেদারল্যান্ডসের মোট সোনার ৩১.৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ১৮.৫ শতাংশ এবং ১৯.৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে কানাডায় ১৮.৫ শতাংশে আনা হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে (লন্ডন) জমার পরিমাণ বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩২.১ শতাংশ। বাকি ৩০.৮ শতাংশ স্বর্ণ রাজধানী আমস্টারডামের কাছে জেইস্টে নিজ কেন্দ্রীয় ভল্টে সংরক্ষিত রয়েছে। ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ উপায়ে স্থানান্তরের জন্য ব্যাংকটি একই সাথে বিক্রয়-ক্রয় প্রক্রিয়া এবং বিমানযোগে সরাসরি সোনার বার পরিবহনের মিশ্র পদ্ধতি ব্যবহার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের আগ্রাসী বাণিজ্য নীতি, কানাডার সাথে শুল্কযুদ্ধ, ইরান ও ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং বিদেশি সম্পদ বাজেয়াপ্তের সাম্প্রতিক বৈশ্বিক প্রবণতা এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। ট্রাম্পের সময়ে মার্কিন ডলার ও পেমেন্ট ব্যবস্থার সম্ভাব্য রাজনৈতিক ব্যবহারের কারণে ইউরোপের অনেক দেশই এখন তাদের জাতীয় সম্পদ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে আনতে শুরু করেছে। এর আগে ফ্রান্স এবং জার্মানিও একই ধরনের পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের স্বর্ণ ফিরিয়ে নিয়েছিল।
সূত্র: আল জাজিরা
জা.অর্থনীতি/এসআই