আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের ব্যাওরা শহরের অজনার নদী। একসময় জঞ্জালে এমন ভাবে ভরে গিয়েছিল যে, নদীর জল পর্যন্ত দেখা যেত না। প্লাস্টিকের বোতল, আবর্জনা ও আগাছায় ঢাকা সেই নদী পরিষ্কারের দায়িত্ব নিজের কাঁধেই তুলে নিলেন ২১ বছরের কলেজছাত্র সুরেন্দ্র সিংহ চৌধরি ওরফে বিট্টু। কোনও যন্ত্রপাতি বা নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই খালিহাতে টানা সাত মাস ধরে নদী পরিষ্কার করেন তিনি।
বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক স্তরের ছাত্র বিট্টুর বাবা-মা দু’জনেই স্বাস্থ্য দফতরে কর্মরত। নিজের শহর ও এলাকার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই তাঁর স্বপ্ন। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়মিত নদীতে আবর্জনা ফেললেও তা পরিষ্কারের বিষয়ে কেউ উদ্যোগী হননি। পুরসভার কর্মীদেরও এ নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ করতে দেখা যায়নি। শেষ পর্যন্ত নিজেই নদীতে নেমে পড়েন বিট্টু।
নদী পরিষ্কারের আগে ও পরে তোলা দুটি ছবি পাশাপাশি রেখে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করতেই তা ছড়িয়ে পড়ে। প্রশংসা আসে বিভিন্ন মহল থেকে। এমনকি, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব তাঁকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহ দেন। আগামী দিনে সরকারি সাহায্যের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
তবে এত প্রশংসার পরেও হতাশ বিট্টু। কারণ, পরিষ্কার করা নদীতে ফের আবর্জনা জমতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের একাংশ এখনও নদীতে জঞ্জাল ফেলছেন বলে অভিযোগ তাঁর। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরেও এনেছেন তিনি। ইতিমধ্যে পুরসভার তরফে এলাকায় জেসিবি ও আবর্জনা পরিষ্কারের যন্ত্র আনা হয়েছে। তবে স্থায়ী সমাধান হবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে বিট্টু।
এদিকে, তাঁর কাজ দেখে নেদারল্যান্ডসের একটি সংগঠনের সিইও পদে চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার খবরও ছড়িয়েছে। তবে বিট্টুর দাবি, সমাজমাধ্যমে বিষয়টি দেখলেও তাঁর সঙ্গে এখনও ব্যক্তিগত ভাবে কেউ যোগাযোগ করেননি।
সূত্র: আনন্দবাজার
জা.অর্থনীতি/এসআই