চীনকে রুখতে যে ছক কষছে তাইওয়ান

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: ১০০ মাইল চওড়া সমুদ্র প্রণালি পেরিয়ে কি সত্যিই তাইওয়ান দখল করতে পারবে চীন? বেইজিং যখন বিশাল সব যুদ্ধজাহাজ আর আধুনিক মিসাইল নিয়ে শক্তির জানান দিচ্ছে, ঠিক তখনই গোপনে একটা অবিশ্বাস্য মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করছে তাইওয়ান! চীনের শত কোটি ডলারের নৌবহরকে স্রেফ বালির প্রাসাদের মতো ধসিয়ে দেওয়ার এই ছক আপনাকে রীতিমতো অবাক করবে!

দীর্ঘদিন ধরে বড় বড় ডেস্ট্রয়ার আর ফ্রিগেটকেই নিজেদের মূল শক্তির ভিত্তি মনে করত তাইওয়ান। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে এক ভয়ংকর সত্যি সামনে এসেছে। শত শত কোটি টাকা খরচে বানানো বিশাল এক-একটা যুদ্ধজাহাজ এখন চীনের উন্নত ড্রোন, স্যাটেলাইট নজরদারি আর দূরপাল্লার মিসাইলের মুখে একেকটা ঝুলন্ত টার্গেট ছাড়া আর কিছুই নয়! একটা বড় জাহাজ ডুবে যাওয়া মানে শুধু সামরিক ক্ষতি নয়, বিশাল রাজনৈতিক ধাক্কা।

কিন্তু এখানেই আসছে সবচেয়ে বড় টুইস্ট! চীনকে ঠেকাতে গিয়ে এমন এক রণকৌশল হাতে নিচ্ছে তাইওয়ান, যা চীন কল্পনাও করেনি। বিশাল জাহাজ নয়, তাইওয়ান এখন বানাচ্ছে হাজার টনের ছোট ছোট স্টেলথ কর্ভেট, মিসাইলবাহী দ্রুতগতির টহলজাহাজ আর চালকবিহীন ড্রোন বোট। সাগরের বুকে একটি বিশাল লক্ষ্যবস্তু না রেখে, শত শত ছোট ছোট বিষাক্ত তীরের মতো জাহাজ ছড়িয়ে দেওয়ার এই নীতি চীনের পুরো পরিকল্পনাকে ভণ্ডুল করে দিতে পারে!

ভাবছেন এত ছোট জাহাজ দিয়ে চীনের সুবিশাল নৌবাহিনীকে আটকানো সম্ভব? ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চমক লুকিয়ে আছে এখানেই! ইউক্রেন যুদ্ধের কথা চিন্তা করুন। নিজস্ব কোনো শক্তিশালী নৌবাহিনী না থাকা সত্ত্বেও শুধু ড্রোন, গাইডেন্স প্রযুক্তি আর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার প্রতাপশালী নৌবহরকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছিল ইউক্রেন। ঠিক একই কায়দায় ফিনল্যান্ড আর সুইডেনের মতো দেশগুলোও বড় শত্রুকে টেক্কা দেওয়ার ছক বানিয়েছে। তাইওয়ান এখন সেই একই পথ ধরছে!

তাহলে কি তাইওয়ান সমুদ্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়? উত্তর হলো—একদমই না! তাইওয়ানের লক্ষ্য সমুদ্র জয় করা নয়; বরং চীন যেন কোনোভাবেই প্রণালি পার হয়ে তাদের উপকূলে পৌঁছাতে না পারে, সেই পরিস্থিতি তৈরি করা। চীনের জন্য প্রণালি পার হওয়াকে এত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ আর ব্যয়বহুল করে তোলা, যাতে যুদ্ধের চিন্তা বেইজিংকে শুরুতেই বাদ দিতে হয়!

কিন্তু এই মাস্টারপ্ল্যানের পেছনে সবচেয়ে বড় বাঁধাটি প্রযুক্তি নয়, বরং নিজেদের দেশের রাজনীতি! বড় জাহাজ দেখলে চোখে যে শক্তির ভাব ফুটে ওঠে, ছোট বোটে তা মেলে না। তাইওয়ান কি পারবে এই মানসিকতা বদলে আধুনিক ড্রোন, এআই প্রযুক্তি আর সাবমেরিননির্ভর ছোট কিন্তু প্রাণঘাতী নৌবহর গড়ে তুলতে? নাকি চীনের সামরিক সক্ষমতার কাছে হার মানবে তাদের এই নতুন ছক? উত্তর লুকিয়ে আছে সময় আর তাইওয়ানের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের গভীরে!

—জা.অর্থনীতি/জেআরটি