বাংলাদেশের ঐতিহাসিক মসজিদের সচিত্র পরিচয় নিয়ে গ্রন্থপ্রকাশ

ড. মো. আতাউর রহমান

বাংলাদেশের প্রাচীন মসজিদ স্থাপত্য নিয়ে বাংলা ভাষায় গবেষণামূলক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রকাশনা) ড. মো. আতাউর রহমানের প্রণীত ‘বাংলাদেশের প্রাচীন মসজিদ’ শীর্ষক গ্রন্থটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশের মসজিদ স্থাপত্য নিয়ে প্রকাশিত গ্রন্থের অধিকাংশই ইংরেজি ভাষায় হওয়ায় বাংলা ভাষায় এ বিষয়ে পাঠযোগ্য গ্রন্থের অভাব রয়েছে। গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পাঠকের কথা বিবেচনা করে সহজ-সরল বাংলায় গ্রন্থটি প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাচীন মসজিদ স্থাপত্য সম্পর্কে বিভিন্ন শ্রেণির পাঠক সহজেই ধারণা লাভ করতে পারবেন।

গ্রন্থটিতে দেশের প্রায় ৬৪ জেলায় টিকে থাকা ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মসজিদগুলোর মধ্য থেকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক সংরক্ষিত নান্দনিক ও শিল্পমূল্যসম্পন্ন ১৪৪টি মসজিদ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি মসজিদের স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, নির্মাণশৈলী, অলংকরণ ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তথ্য ও ছবি সংযোজন করা হয়েছে। ২৪৮ পৃষ্ঠার বইটি আট কার্ডে অ্যালবাম আকারে মুদ্রিত হয়েছে। গ্রন্থটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২২৫ টাকা।

বাংলাদেশের মুসলিম সভ্যতা ও স্থাপত্যের ইতিহাসে প্রাচীন মসজিদগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এসব স্থাপনা শুধু ইট-পাথরের নির্মাণ নয়; এগুলোর মাধ্যমে তৎকালীন মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস, শিল্পরুচি, নির্মাণকৌশল, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং সমাজ-সংস্কৃতির নানা দিক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। সুলতানি, মোগল, নবাবি এবং পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন স্থাপত্যরীতির বৈচিত্র্যও এসব মসজিদে প্রতিফলিত হয়েছে।

বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ, গৌড়ের ছোট সোনা মসজিদ, দিনাজপুরের সুরা মসজিদ, নওগাঁর কুসুমবা মসজিদ, ফেনীর শর্শদী মসজিদ, হবিগঞ্জের শংকরপাশা মসজিদ, টাঙ্গাইলের আতিয়া জামে মসজিদ, ঢাকার লালবাগ মসজিদ ও সাতগম্বুজ মসজিদসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন মসজিদগুলো বাংলাদেশের স্থাপত্য ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

লেখক ড. মো. আতাউর রহমান তাঁর দীর্ঘ গবেষণার ভিত্তিতে গ্রন্থটিতে এসব স্থাপনার ইতিহাস, স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য, শিল্পসৌন্দর্য ও বর্তমান অবস্থা পাঠকের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। বাংলাদেশের মুসলিম স্থাপত্যের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে নতুন করে আলোচনা ও গবেষণার ক্ষেত্র তৈরিতে গ্রন্থটি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলার মাটিতে ইসলামের আগমন ও বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত এসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সম্পর্কে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে আগ্রহ তৈরির পাশাপাশি বাংলাদেশের স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস অনুধাবনেও গ্রন্থটি সহায়ক হবে। দীর্ঘ গবেষণার ফসল ‘বাংলাদেশের প্রাচীন মসজিদ’ গ্রন্থটির সাফল্য কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।