গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে মাদ্রাসার গেটের বাইরে থেকে এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে বাদিনীর ছেলে সাইমুন ইসলাম সাইম ‘আল ইমরান’ মাদ্রাসার গেটের বাইরে বের হলে আসামিরা তাকে চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ানোর পর অটোরিকশায় তুলে লক্ষ্মীপুর ধোপাডাঙ্গা এলাকার রবিউল ইসলামের এক অজ্ঞাত আত্মীয়ের ভাড়া বাসায় নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মামলার ২ ও ৩ নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জন ওই শিশুকে সেখানে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে। পরে বাদিনী ও তার শাশুড়ির মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করে শিশুটিকে অপহরণের কথা জানিয়ে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে শিশুটিকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বদলির আদেশের পরও বহাল তবিয়তে ভূমি অফিসের ২ কর্মচারী
বিষয়টি বাদিনী মাদ্রাসার পরিচালক শাহ জালাল হোসেন রোস্তমকে জানালে তিনি প্রতক্ষ্যদর্শীদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটির সন্ধান শুরু করেন। একই দিন বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে ধোপাডাঙ্গা গ্রামের একটি ভাড়া বাসার অন্ধকার কক্ষ থেকে শিশুটিকে হাত-পা বাঁধা ও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা হলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই পিযুষ চন্দ্র সরকার তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালান। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে গাইবান্ধা সদর থানাধীন কামারজানি ইউনিয়নের কুন্দারপাড় চর এলাকা থেকে মামলার ১ নম্বর আসামি সজল মিয়া ও ২ নম্বর আসামি সুলাইমান ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা শিশুটিকে অপহরণ এবং মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি স্বীকার করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
নোয়াখালীতে শিশু নিপীড়নের অভিযোগে জামায়াত নেতা কারাগারে
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
—জা. অর্থনীতি/এনজে