আর্জেন্টিনায় দারিদ্র্য বেড়ে ৩২.৩ শতাংশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আর্জেন্টিনায় আবারও বেড়েছে দারিদ্র্যের হার। প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেইর আমলে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটির ৩২ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এই হার ছিল ২৮ দশমিক ২ শতাংশ। খবর আল জাজিরার।

বৃহস্পতিবার দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইনডেক (আইএনডিইসি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দারিদ্র্যের হার বেড়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশীয় পয়েন্ট। একই সময়ে চরম দারিদ্র্যের হারও ৬ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে।

কর্মসংস্থানের পরিস্থিতিও খারাপ হয়েছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বেকারত্বের হার বেড়ে ৭ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২১ সালের পর দেশটির সর্বোচ্চ। যারা কর্মে আছেন, তাদের অনেকের আয়ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না।

আইএনডিইসির তথ্য বলছে, বছরের প্রথম ছয় মাসে মাথাপিছু পারিবারিক আয় বেড়েছে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু দারিদ্র্যসীমা নির্ধারণে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। ফলে আয় বাড়লেও মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

মাইলেই ২০২৩ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর বাজারমুখী অর্থনৈতিক সংস্কারের সাফল্য হিসেবে দারিদ্র্য কমার বিষয়টি একাধিকবার তুলে ধরেছিলেন। তাঁর সরকারের পেসোর অবমূল্যায়ন ও ব্যাপক ব্যয় সংকোচনের পর ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে দারিদ্র্যের হার প্রায় ৫৩ শতাংশে উঠে যায়। পরে মূল্যস্ফীতি কমার সঙ্গে সঙ্গে তা দ্রুত নেমে আসে এবং ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ২৮ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়ায়, যা ২০১৮ সালের শুরুর পর সর্বনিম্ন ছিল।

তবে চলতি বছরের এই বৃদ্ধি আগের অর্জনের একটি অংশকে মুছে দিয়েছে। যদিও ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের দারিদ্র্যের হার এখনও ২০২৪ সালের প্রথমার্ধের ৫০ শতাংশের বেশি হারের তুলনায় অনেক কম।

আগামী মাসগুলোতে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলে পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। আর্জেন্টিনার ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউসিএ) হিসাব অনুযায়ী, বছরের শেষে দেশটির দারিদ্র্যের হার ৩৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়টির এই হিসাবকে দেশটির সরকারি দারিদ্র্য প্রবণতার একটি আগাম সূচক হিসেবে দেখা হয়।

মূল্যস্ফীতি কমার ফলে যে সামাজিক অগ্রগতি হয়েছিল, তা এখন গতি হারানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। সামনে দারিদ্র্য কমাতে হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রকৃত মজুরি বাড়ানোর ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে হবে। মাইলেই ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার সময়ের তুলনায় গড় বেতন এখনও প্রকৃত মূল্যে নিচে রয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

—জা.অর্থনীতি/জেআরটি