মৌলভীবাজারে দ্বিগুণ ভাড়া  আদায়ের অভিযোগ

রাজন হোসেন তৌফিক, মৌলভীবাজার: জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সরকার সারা দেশে বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে মৌলভীবাজারে সরকারি নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন রুটে নির্ধারিত হারের প্রায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত, চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মৌলভীবাজার থেকে ঢাকা রুটের দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। সরকারি নতুন হার অনুযায়ী এ রুটে ভাড়া বাড়ার কথা ৩৪ টাকা। কিন্তু বাস্তবে নন-এসি বাসের ভাড়া ৫৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫০ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ এ রুটে ভাড়া বেড়েছে ৭০ টাকা, যা সরকারি নির্ধারিত বৃদ্ধির দ্বিগুণেরও বেশি। একই রুটে এসি বাসের ভাড়া কোথাও কোথাও ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভ্যন্তরীণ রুটেও একই চিত্র দেখা গেছে। শ্রীমঙ্গল থেকে সিলেট রুটের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার। সরকারি হারে এ রুটে ভাড়া বাড়ার কথা ১৩ টাকা ৬০ পয়সা। অথচ আগে ১৭০ টাকা ভাড়া থাকলেও এখন তা বাড়িয়ে ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ ভাড়া বেড়েছে ৩০ টাকা। এসি বাসের ভাড়া ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫০ টাকা করা হয়েছে। যাত্রীদের দাবি, এসব ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারের তুলনায় অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

নিয়মিত যাতায়াতকারী চাকরিজীবী সেজু আহমেদ বলেন, তেলের দাম বাড়ার পর বাসভাড়াও বাড়ানো হয়েছে। ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় প্রতি মাসে আমার যাতায়াত খরচ প্রায় ৩ হাজার টাকা বাড়বে। অথচ আমাদের বেতন বাড়েনি। কীভাবে চাকরি করব এবং পরিবার চালাব, বুঝতে পারছি না। সিলেটগামী শিক্ষার্থী আমির হোসেন বলেন, প্রতিদিন শ্রীমঙ্গল থেকে সিলেটে ক্লাস করতে যেতে হয়। ৩০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আমাদের জন্য অনেক। কাউন্টারে কিছু বললে তারা বলে, নিতে হলে নেন, না হলে নাই। দেখার কেউ নেই। তবে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরিবহন মালিকরা। মৌলভীবাজার বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আব্দুর রহিম রিপন বলেন, সরকার নির্ধারিত হারেই বাসভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এর বাইরে মৌলভীবাজারে কেউ বেশি ভাড়া নিতে পারবেন না। ভাড়ার বিষয়টি দেখাশোনার জন্য দেশে আলাদা একটি বোর্ড রয়েছে। কেউ বেশি ভাড়া নিলে প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যাত্রীদের অভিযোগ, মালিক সমিতির বক্তব্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মিল নেই। অনেক কাউন্টারে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা টানানো হয়নি। ফলে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যকর নজরদারি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান দাবি করেছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।