কুলিয়ারচরে ডেঙ্গুর চেয়ে বেওয়ারিশ শিয়াল-কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত বেশি
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ডেঙ্গুর চেয়ে শিয়াল, কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব প্রাণীর কামড়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩০৭ জন। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫৬ জন। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরেই ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৩৬ জনের।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) একদিনে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছয়জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। একই মাসে শিয়াল, কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৪ জন।

তবে এই পরিসংখ্যান শুধু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের। উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেওয়া রোগীরা এ হিসাবের বাইরে। ফলে প্রাণীর কামড়ে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কুলিয়ারচরের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বেওয়ারিশ কুকুরের পাশাপাশি শেয়ালের বিচরণও বেড়েছে। আগে লোকালয় থেকে দূরে কিংবা গভীর রাতে শেয়াল দেখা গেলেও এখন দিনের বিভিন্ন সময় বসতবাড়ি, রাস্তা ও পাড়া-মহল্লার আশপাশেও শেয়ালের দেখা মিলছে।

এর আগে গত ২৬ জুলাই একদিনেই শেয়ালের কামড়ে নয়জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। একই দিনে বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেন আরও তিনজন। ওই ঘটনার পর লোকালয়ে শেয়ালের বিচরণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।

স্থানীয়রা বলছেন, বেওয়ারিশ প্রাণীর বিচরণ বাড়ায় বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, প্রাণীর কামড়ের পর চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি লোকালয়ে এসব প্রাণীর বিচরণ বাড়ার কারণও খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক সময়ে কুলিয়ারচরসহ বিভিন্ন এলাকায় শখ করে বিড়াল পালনের প্রবণতাও বেড়েছে। এ কারণে পোষা বিড়ালকে নিয়মিত জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আদনান আখতার বলেন, ইদানীং অনেকেই শখ করে বিড়াল পালন করছেন। পোষা বিড়ালকে অবশ্যই জলাতঙ্কের টিকা দিতে হবে। কুকুর, শিয়াল, বিড়ালসহ জলাতঙ্কের ঝুঁকিপূর্ণ কোনো প্রাণী কামড়ালে ক্ষতস্থান সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে অন্তত ৩০ মিনিট ধুয়ে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে হবে।

তিনি বলেন, জলাতঙ্কের ঝুঁকি রয়েছে এমন প্রাণীর কামড় বা আঁচড়কে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় টিকা ও চিকিৎসা নিতে হবে।

আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস। দিবসটি সামনে রেখে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কুকুর, শিয়াল, বিড়ালসহ আক্রান্ত বা সন্দেহজনক স্তন্যপায়ী প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

স্থানীয়দের মতে, কুলিয়ারচরে বেওয়ারিশ প্রাণীর বিচরণ নিয়ন্ত্রণে পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে লোকালয়ে শেয়ালের উপস্থিতি বাড়ার কারণ অনুসন্ধান এবং বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নয় মাসের হিসাবেই ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৬ জনের বিপরীতে শিয়াল, কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৩০৭ জন। বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রের রোগী যুক্ত হলে সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ফলে কুলিয়ারচরে বিষয়টি এখন শুধু জনস্বাস্থ্যের নয়, জননিরাপত্তারও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি