সেচে সৌরবিদ্যুৎ বাড়লে কমবে কৃষকের খরচ: প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

যশোর প্রতিনিধি: কৃষি খাতের উৎপাদন খরচ হ্রাস, সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের প্রসারে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিধি দ্রুত বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানিয়েছেন, সঠিক পদক্ষেপ নিলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই খুলনা বিভাগের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ছাদে 'রুফটপ সোলার' স্থাপনের কাজ ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান করা সম্ভব।

 শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) যশোরের ধর্মতলায় অবস্থিত ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে ‘স্ট্র্যাটেজি থেকে অ্যাকশন, জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ও জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি বাস্তবায়ন’ শীর্ষক আঞ্চলিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালাটি আয়োজন করে 'গ্রিন অ্যানার্জি ট্রানজিশন-পলিসি অ্যাডভাইজরি পার্টনারশিপ' প্রকল্প।

কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "সেচব্যবস্থায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বিস্তৃত করা গেলে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়ের একটি বড় অংশ সাশ্রয় হবে। তখন সেচের জন্য ডিজেলের প্রাপ্যতা, ডিজেল কিংবা বিদ্যুতের ঘনঘন দাম বৃদ্ধির ওপর কৃষকদের নির্ভর করে থাকতে হবে না। সূর্যের প্রকৃতিদত্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে কম খরচে সেচ দেওয়া সম্ভব হলে কৃষকেরা অর্থনৈতিকভাবে বহুলাংশে লাভবান হবেন।" তিনি জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বিভিন্ন এনজিওর পাইলট প্রকল্পগুলোর পরিধি বাড়াতে দাতা সংস্থা ও ফান্ডিং কাঠামোর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তার পরিকল্পনা করছে সরকার।

রুফটপ সোলার ও ব্যক্তিগত সচেতনতা প্রসঙ্গে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, "পরিবেশসম্মত জীবনযাপনের অংশ হিসেবে সর্বস্তরে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো উচিত। দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকেরই নিজ নিজ বাসভবন থেকে এ উদ্যোগ শুরু করা প্রয়োজন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুব শীঘ্রই নিজের বাসভবনে সোলার প্যানেল স্থাপন করে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে যাচ্ছেন। এই উদ্যোগ আমাদের সবার জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক।"

সরকারি প্রতিষ্ঠানে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সিভিল সার্জনসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিজ নিজ অফিসের ছাদে সৌর প্যানেল বসাতে উদ্যোগী হতে বলেন। পাশাপাশি রূপান্তরের এ প্রক্রিয়াকে সহজ করা হয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকদের সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দেন।

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় শাখার যুগ্মসচিব আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরাফিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জিআইজেড (GIZ) বাংলাদেশের অ্যানার্জি ক্লাস্টার সমন্বয়ক স্টয়াঙ্কা স্টিচ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা শাখার অতিরিক্ত সচিব নূর আহমেদ।

দিনব্যাপী এ কর্মশালায় ২০৩০ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা, কার্বন ক্রেডিট, প্রণোদনা, নতুন নেট মিটারিং নির্দেশিকা এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের মাধ্যমে সেবার মানোন্নয়নসহ নানা নীতিগত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি