পিরোজপুরে ডেঙ্গুর থাবা: হাসপাতালে রোগীর চাপ, আক্রান্ত প্রায় ৩ হাজার
ছবি: সংগৃহীত

পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরে দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ। 

চলতি মৌসুমে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১২৮ জন। এ মৌসুমে ডেঙ্গুতে এক নারীর মৃত্যুও হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে। ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে স্বাভাবিক সময়েই ধারণক্ষমতার তিন থেকে সাড়ে ৩ গুণ বেশি রোগী চিকিৎসা নেন। এর সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীর বাড়তি চাপ যুক্ত হওয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র শয্যা সংকট। ফলে অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। এতে চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরও বেড়েছে কাজের চাপ। সীমিত অবকাঠামো ও জনবল দিয়ে অতিরিক্ত রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীদের।

বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি, নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, শয্যা না পাওয়ায় অনেক সময় মেঝে কিংবা বারান্দায় অবস্থান করতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসা নিতে এসে বাড়তি ভোগান্তির পাশাপাশি রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমের শুরু থেকে এ পর্যন্ত পিরোজপুরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজারের বেশি। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১২৮ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কুলিয়ারচরে ডেঙ্গুর চেয়ে বেওয়ারিশ শিয়াল-কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত বেশি

পিরোজপুরের সিভিল সার্জন মো. মতিউর রহমান বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ালেই হবে না। একই সঙ্গে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদার করা প্রয়োজন।

—জা. অর্থনীতি/এনজে