মার্কিন নিষেধাজ্ঞাই চীনের আশীর্বাদ!
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

অনলাইন ডেস্ক: প্রযুক্তি রফতানিতে বাধা দিয়েও চীনের অগ্রগতি থামাতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র; উল্টো আলাদা বিশ্ব প্রযুক্তি ব্যবস্থা গড়ে ওঠার শঙ্কা গবেষকদের! চীনকে আটকাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কি তবে ব্যর্থ হলো? বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক জার্নাল 'সায়েন্স'-এর নতুন গবেষণা বলছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নাম ওঠার পর চীনা কোম্পানিগুলোর বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন উল্টো ৭২ শতাংশ বেড়ে গেছে! 

চীনকে ঠেকাতে একের পর এক অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। উদ্দেশ্য ছিল একটাই—নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং বিশ্ব প্রযুক্তির বাজারে আধিপত্য ধরে রাখা। কিন্তু সেই চাল কি এবার উল্টো গেল? মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জেরেই নাকি চীনের বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন বেড়ে গেছে ৭০ শতাংশের বেশি! আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বৈজ্ঞানিক জার্নাল 'সায়েন্স'-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য! 

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের কালো তালিকা বা 'এনটিটি লিস্টে' নাম ওঠার পর চীনা কোম্পানিগুলো দমে যায়নি। বরং, তারা উন্মুক্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও নিজস্ব উদ্ভাবনের দিকে ব্যাপকভাবে ঝুঁকছে। শেনজেন বিশ্ববিদ্যালয়, সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বিগত ১২ বছরের চীনা প্যাটেন্ট আবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর চীনা কোম্পানিগুলোর প্যাটেন্ট আবেদনে বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ উদ্ধৃতির হার বা সাইটেশন ৭২ শতাংশ বেড়েছে!
 
গবেষকরা বলছেন, স্বল্প মেয়াদে এসব নিষেধাজ্ঞা লক্ষ্যবস্তু বানানো কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত করলেও, দীর্ঘমেয়াদে তা আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন স্বত্বাধিকারযুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধা আসায় চীনা কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদিত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বা একাডেমিক নিবন্ধগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছে। গবেষকদের মতে, কোনো প্রযুক্তির মূল বৈজ্ঞানিক নীতি বোঝার সর্বোত্তম উপায় হলো একাডেমিক নিবন্ধ পড়া। আর এটাই চীনকে প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার দিকে দ্রুত ঠেলে দিচ্ছে। 

এই গবেষণায় আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্যাটেন্ট ও ট্রেডমার্ক অফিস থেকে প্রাপ্ত প্যাটেন্টের বিচারে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের তুলনায় চীনা কোম্পানিগুলোর বৈজ্ঞানিক গবেষণা-সংশ্লিষ্ট প্যাটেন্ট বেড়েছে ১৩.৪ গুণ! যেখানে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি ছিল মাত্র ১.৩ গুণ। তবে, গবেষকরা এও জানিয়েছেন, বৈজ্ঞানিক কাঠামোর গভীরতা ও ব্যাপ্তিতে চীনা কোম্পানিগুলো এখনও যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। 

গবেষকরা বলছেন, আমেরিকার এই কড়াকড়ি চীনকে একটি পৃথক এবং স্বাধীন প্রযুক্তি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাধ্য করছে। যার ফলশ্রুতিতে ভবিষ্যতে হয়তো আমরা বিশ্বজুড়ে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রযুক্তি ব্যবস্থা দেখতে পাব, যা একে অপরের সাথে তীব্র প্রতিযোগিতা করবে। আমেরিকার এই নীতি কি তবে দীর্ঘমেয়াদে তাদের নিজেদের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ালো? 

চীনকে আটকাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কি তবে ব্যর্থ হলো? বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক জার্নাল 'সায়েন্স'-এর নতুন গবেষণা বলছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নাম ওঠার পর চীনা কোম্পানিগুলোর বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন উল্টো ৭২ শতাংশ বেড়ে গেছে! মার্কিন চিপ বা প্রযুক্তি ব্যবহারের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চীনা বিজ্ঞানীরা রাতদিন এক করে উন্মুক্ত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও নিজস্ব গবেষণা জোরদার করেছে। গবেষকরা বলছেন, আমেরিকা আসলে চীনকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে এবং একটি সম্পূর্ণ আলাদা প্রযুক্তি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাধ্য করছে। তাহলে কি আমেরিকার চাল নিজের দিকেই বুমেরাং হয়ে ফিরলো? 

প্যাটেন্ট বা নতুন উদ্ভাবনের দুনিয়ায় আমেরিকাকে বিশাল ব্যবধানে পেছনে ফেললো চীন! সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্যাটেন্ট ও ট্রেডমার্ক অফিসের হিসাব অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈজ্ঞানিক গবেষণা-সংশ্লিষ্ট প্যাটেন্ট যেখানে বেড়েছে মাত্র ১.৩ গুণ, সেখানে চীনা কোম্পানিগুলোর এই প্যাটেন্ট বৃদ্ধির হার অবিশ্বাস্য- ১৩.৪ গুণ! মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে চীনা কোম্পানিগুলো শুধু বিকল্প উপাদানই বানাচ্ছে না, পুরো পণ্যের নকশাই বদলে ফেলছে। তবে, গভীরতা ও গুণগত মানে চীন এখনো আমেরিকার চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে। এই প্রযুক্তি যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবে?  

 

—জা. অর্থনীতি/এলএটি