ইসরায়েলি নির্মাতাদের সাহসী কাণ্ড, নেতানিয়াহুর বি/রুদ্ধে প্রামাণ্যচিত্র! কীভাবে সম্ভব?
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

অনলাইন ডেস্ক: নিজের দেশের সরকারের বিরুদ্ধে সিনেমা বানিয়ে কেন ঝুঁকি নিলেন দুই ইসরায়েলি নির্মাতা? গাজা যুদ্ধ ও গণহত্যা নিয়ে নির্মিত ‘নাজা’ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তৈরি করেছে আলোচনা! প্রামাণ্যচিত্রটিকে ‘ইহুদি বিদ্বেষী’ বলেছেন নেতানিয়াহু, আর নির্মাতাদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের সংস্কৃতিমন্ত্রী! কী উদ্দেশ্যে এমন সিনেমা নির্মাণ করলেন ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল জোর? 

ইসরায়েলি নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল জোরের নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘নাজা’ গাজা যুদ্ধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। এর আগে, তাদের নির্মিত ‘নো আদার ল্যান্ড’ ফিলিস্তিনের গাজা নিয়ে নির্মিত হয়ে অস্কার জিতেছিল! দিন কয়েক আগে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রায় ২৫ মিনিটের দীর্ঘ করতালিতে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে ‘নাজা’! প্রামাণ্যচিত্রটি পেয়েছে ‘স্পেশাল জুরি প্রাইজ’। সম্প্রতি নিউইয়র্ক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রামাণ্যচিত্রটির প্রিমিয়ার হয়।

এতে গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক কর্মকাণ্ড এবং এতে মার্কিন প্রশাসনের অর্থায়নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে! এর ফলে, ইসরায়েল-আমেরিকার সম্পর্ক এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গণহত্যা বিতর্কও সামনে এসেছে। 

এদিকে, প্রামাণ্যচিত্রটি নিয়ে নেতানিয়াহু মন্তব্য করে এটিকে ‘ইহুদি বিদ্বেষী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন! ইসরায়েলের সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহর নির্মাতাদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকিও দিয়েছেন! তবে, নিউইয়র্কে প্রামাণ্যচিত্রটির প্রদর্শনীর পর দর্শকদের সঙ্গে আলোচনায় নিজেদের উদ্দেশ্যের কথা জানান নির্মাতারা। 

ইউভাল আব্রাহাম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রামাণ্যচিত্রটি প্রদর্শনের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যই তাদের বড় প্রেরণা! তাদের লক্ষ্য ছিল-ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে মার্কিন সহায়তার বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আলোচনা জোরদার করা এবং আসন্ন ইসরায়েলি নির্বাচনের আগে দেশটির সমাজে নতুন করে প্রশ্ন তোলা! 

আব্রাহাম আরও বলেন, প্রামাণ্যচিত্রটির বার্তা হলো-এই অপরাধগুলো এখনো চলছে এবং শুধু ইসরায়েল নয়, যুক্তরাষ্ট্রও এগুলোকে সমর্থন ও অর্থায়ন করছে বলে দাবি তাদের। নেতানিয়াহুর বক্তব্যের জবাবও দেন আব্রাহাম। 

অন্যদিকে, সহ-নির্মাতা র্যাচেল জোর বলেন, ইসরায়েলের সাধারণ মানুষের চোখে এই গণহত্যাকে আড়াল করার যে সংস্কৃতি চলছিল, সেটি ভাঙাই ছিল তাদের অন্যতম লক্ষ্য! 

‘নাজা’ র মূল ভিত্তি গড়ে উঠেছে গাজা যুদ্ধে অংশ নেওয়া ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ২৪ জন সাবেক সেনাসদস্যের গোপন সাক্ষাৎকারের ওপর! এতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ, বেসামরিক মানুষ হত্যা ও প্রাণহানির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে বলে নির্মাতারা জানিয়েছেন! পাশাপাশি তেল আবিবের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে মানুষের স্বাভাবিক জীবন এবং গাজার ধ্বংসস্তূপের তুলনামূলক চিত্রও দেখানো হয়েছে! 

নিজের দেশের সরকারের বিরুদ্ধে সিনেমা বানিয়ে কেন ঝুঁকি নিলেন দুই ইসরায়েলি নির্মাতা? গাজা যুদ্ধ ও গণহত্যা নিয়ে নির্মিত ‘নাজা’ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তৈরি করেছে আলোচনা! প্রামাণ্যচিত্রটিকে ‘ইহুদি বিদ্বেষী’ বলেছেন নেতানিয়াহু, আর নির্মাতাদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের সংস্কৃতিমন্ত্রী! কী উদ্দেশ্যে এমন সিনেমা নির্মাণ করলেন ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল জোর? 

ইসরায়েলি নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল জোরের নতুন প্রামাণ্যচিত্র ‘নাজা’ গাজা যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনা তৈরি করেছে। ভেনিসে স্পেশাল জুরি প্রাইজ পাওয়ার পর নিউইয়র্কেও প্রামাণ্যচিত্রটির প্রিমিয়ার হয়েছে! নেতানিয়াহু এটিকে ‘ইহুদি বিদ্বেষী’ বলেছেন এবং ইসরায়েলের সংস্কৃতিমন্ত্রী নির্মাতাদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দিয়েছেন! নির্মাতারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আলোচনা জোরদার করা এবং ইসরায়েলি সমাজে নতুন করে প্রশ্ন তোলাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।  

 

—জা. অর্থনীতি/এলএটি