চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে ছাত্র ও যুব ইউনিয়নের মশাল মিছিল
ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং ওভারফ্লো ইয়ার্ড ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরের হাতে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদী মশাল মিছিল করেছে চট্টগ্রাম জেলা শাখার বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নগরের সিনেমা প্যালেস থেকে আন্দরকিল্লা পর্যন্ত এ মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন জেলা সভাপতি শাহ আলমের সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জেলার কোষাধ্যক্ষ ঋশু সাহার সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি শুভ দেব নাথ, সহকারী সম্পাদক দীপ্ত নূর, যুব ইউনিয়ন জেলা সাধারণ সম্পাদক জাবেদ চৌধুরী, কোতোয়ালি থানার সভাপতি নাবিলা তাজিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক রনি কান্তি দেব।

বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পৈতৃক সম্পত্তি নয়, এটি আমাদের জাতীয় অর্থনীতির লাইফলাইন এবং সার্বভৌমত্বের প্রতীক। পিপিপি বা উন্নয়নের চটকদার স্লোগান দিয়ে দেশের প্রধান কৌশলগত অর্থনৈতিক সম্পদ বিদেশি লুটেরা বহুজাতিক কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত চরম গণবিরোধী এবং জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী।

বক্তারা আরও বলেন, বিগত দিনে মোংলা বন্দর ও পতেঙ্গা টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার পর এবার দেশের প্রধান বন্দরের হৃদপিণ্ড হিসেবে পরিচিত এনসিটিকে বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের মতো বিতর্কিত ও লুটেরা কর্পোরেটের স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে দেশের হাজার হাজার বন্দর শ্রমিকের পেটে লাথি মারা হচ্ছে, রাজস্ব আয় হুমকির মুখে ফেলা হচ্ছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা হচ্ছে। বিদেশি লর্ড ও কর্পোরেট প্রভুদের সন্তুষ্ট করতে দেশের স্বনির্ভর অর্থনীতিকে পঙ্গু করার এই সুগভীর চক্রান্ত দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

বক্তারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন, দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা ও বন্দর শ্রমিকদের রক্তে গড়া এই বন্দরকে কোনো অবস্থাতেই বিদেশি বেনিয়া ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির চারণভূমিতে পরিণত হতে দেওয়া হবে না। আগামী ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির অবস্থান কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে ছাত্র-যুব-জনতা রাজপথে থাকবে। অবিলম্বে এই গণবিরোধী লিজ চুক্তি বাতিল করা না হলে চট্টগ্রামের মাটি থেকে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার সম্মিলিত মরণপণ গণপ্রতিরোধ ও তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।"

—জা.অর্থনীতি/এনজে