বিনোদন ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ার বালিতে শুটিং করতে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী নুসরাত ভারুচা। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন তিনি। এরপর তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার মেরুদণ্ডে গুরুতর আগাত লেগেছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) নায়িকার টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেরুদণ্ডে চিড় ধরার ফলে নুসরাতকে দ্রুত বালি থেকে মুম্বাইয়ে আনা হচ্ছে।
খুব শিগগিরিই অভিনেত্রীর অস্ত্রোপচার করা হবে। বলিউড মাধ্যম সূত্রে খবর, অভিনেত্রী শুটিংয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ছুটি কাটানোর জন্য বালিতে গিয়েছিলেন।
ইন্ডাস্ট্রির কানাঘুষা, টাইগার শ্রফের সঙ্গে পরবর্তী সিনেমাতে জুটি বাঁধবেন নুসরাত। সম্ভবত সেই সিনেমার শুটিং চলাকালীনই আহত হয়েছেন অভিনেত্রী।
এরপরই তাকে বালির এক নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চব্বিশ ঘণ্টা সেখানেই চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছেন নুসরাত। প্রথমে শোনা গিয়েছিল, সেখানেই নায়িকার চিকিৎসা হবে।
কিন্তু শুক্রবার বেলা তার টিম থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অভিনেত্রীর চিকিৎসা মুম্বাইয়েই হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে পয়লা অক্টোবর দুর্ঘটনার কবলে পড়েন নুসরাত। যার জেরে তার মেরুদণ্ডে চিড় ধরেছে। বর্তমানে বালির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বেশ কয়েকটি পরীক্ষার পর অভিনেত্রীর মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার করা হবে।
ওই বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, এই মুহূর্তে নুসরাতের স্বাস্থ্য এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান কাজ। আমরা ওকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে বালি থেকে মুম্বাইয়ে আনার ব্যবস্থা করছি, ওখানেই অস্ত্রোপচার হবে। এমন গুরুতর আঘাত এবং অস্ত্রোপচারের কারণে তার সুস্থ হয়ে উঠতে বেশ খানিকটা সময় লাগবে। এই মুহূর্তে আগামী কয়েক সপ্তাহ বিশ্রামের প্রয়োজন। কাজে ফিরতে একটু সময় দরকার।
শুটিং চলাকালীন নুসরাতের দুর্ঘটনার কবলে পড়া নতুন ঘটনা নয়। ২০২৩ সালে শুটিং চলাকালীন সময়ে তার আহত হওয়ার দুটি ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছিল। এপ্রিল মাসে ‘আকেলি’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় গুরুতর আহত হয়েছিলেন। চিকিৎসকরা তাকে বেশ কিছুদিন বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তার আগে ‘ছোরি ২’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় একটি অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে তার মুখে আঘাত লাগে। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে তার মুখে এবং ভ্রু সংলগ্ন অংশে সেলাই করতে হয়।
২০২১ সালের আগস্টে লভ রঞ্জনের একটি সিনেমার শুটিং চলাকালীন হঠাৎ নুসরাতের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। প্রায় ২৩-২৪ দিন একটানা কাজ করার কারণে তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। ঘটনার দিন তিনি ঠিকমতো দাঁড়াতে বা কথা বলতে পারছিলেন না।
ওই সময় তাকে মুম্বাইয়ের হিন্দুজা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসার পর জানান, তিনি ভার্টিগোর সমস্যায় আক্রান্ত। অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও ক্লান্তির জন্যই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ১৫ দিন বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। এর ফলে সিনেমাটির শুটিংও কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
—জা.অর্থনীতি/জেআরটি
