আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে সৌদি আরবের সঙ্গে সংলাপ শুরুর আহ্বান জানিয়েছে ইরান। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতেও প্রস্তুত তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে ফোনালাপে এ কথা জানিয়েছেন।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। আলোচনায় সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
রোববার টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, রাজনৈতিক সমাধান উপেক্ষা করে সামরিক পদক্ষেপের ওপর জোর দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটগুলোর সামরিক সমাধান নেই। আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে গত সপ্তাহেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত প্রসঙ্গে একই ধরনের বক্তব্য দেন আরাঘচি। তিনি বলেছিলেন, ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে আলোচনা ছাড়া এই সংঘাতের অবসান সম্ভব নয়।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ শুরু করতে এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করতে ইরান প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর উত্তেজনা
গত শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ওই হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন।
ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নতুন করে বিবেচনার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে ইরানে আবারও হামলা চালানো হবে কি না, তা বিবেচনা করছেন বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য তার আগের অবস্থানের তুলনায় ভিন্ন। এর আগে বৃহস্পতিবার তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হবে না।
ইরান-সৌদি সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন
ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক বিরোধ রয়েছে। তবে ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। এর আগে সাত বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন ছিল।
সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার পরও বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ রয়ে গেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সৌদি আরব ও তেহরানের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়।
ইরান ও তাদের মিত্র বাহিনীগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রও এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানকে কৌশল পুনর্বিবেচনার আহ্বান সৌদি আরবের
২০২৬ সালের মার্চে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, সৌদি আরব ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলার বিষয়টি অনির্দিষ্টকাল সহ্য করা হবে না। তিনি তেহরানকে নিজেদের কৌশল পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
এমন পরিস্থিতিতে ইরানের পক্ষ থেকে সংলাপের প্রস্তাব আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে আলোচনা শুরু হবে কি না, কিংবা এ উদ্যোগে বাস্তব অগ্রগতি হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সূত্র: রয়টার্স
—জা. অর্থনীতি/এএইচএ