মুনাফা তোলার চাপে ফের হোঁচট

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: টানা তিন কার্যদিবসের উত্থানের পর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে আবারও দরপতনের মুখে পড়েছে দেশের পুঁজিবাজার। গতকাল শনিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শুরুতে সূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও শেষ দিকে বিক্রয়চাপ বাড়ায় তা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। আগের কয়েকদিনের দর বৃদ্ধির পর বিনিয়োগকারীদের একাংশ মুনাফা তুলে নেওয়া এবং নতুন করে বিনিয়োগে সতর্ক অবস্থানের কারণে দিন শেষে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। একইসঙ্গে লেনদেনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৮ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৪৩৩ দশমিক ১৮ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। বাছাই করা কোম্পানির সূচক ডিএস৩০ কমেছে ৬ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ২৯ শতাংশ এবং শরিয়াভিত্তিক সূচক ডিএসইএস কমেছে ৫ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশ। এদিন লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৬টি কোম্পানির মধ্যে ২২৯টির দর কমেছে, বেড়েছে ৯৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৬১টির।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, গত তিন কার্যদিবসের ধারাবাহিক উত্থানের পর স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নিয়েছেন। বিশেষ করে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস হওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী নতুন করে ঝুঁকি নেওয়ার পরিবর্তে হাতে থাকা শেয়ার সমন্বয় করেছেন। এর সঙ্গে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আসন্ন আর্থিক প্রতিবেদন ও পর্ষদ সভার ফলাফল নিয়ে অপেক্ষার কারণে বাজারে নতুন অর্থ প্রবেশের প্রবণতাও কম ছিল।

এর প্রতিফলন দেখা গেছে দিনের লেনদেনে। ডিএসইর প্রধান বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ১৭৩ দশমিক ৮০ মিলিয়ন টাকা অর্থাৎ প্রায় ৩১৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪ হাজার ৯৯৬ দশমিক ৯০ মিলিয়ন টাকা বা প্রায় ৪৯৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ফলে এক দিনে লেনদেন কমেছে ৩৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। একইসঙ্গে লেনদেন হওয়া শেয়ারের পরিমাণও ৩০ দশমিক ৭০ শতাংশ কমে ১১ কোটি ৩৩ লাখ ৭০ হাজারের মতো দাঁড়িয়েছে।

খাতভিত্তিক লেনদেনে বস্ত্র খাত এগিয়ে ছিল। এ খাতে প্রায় ৭৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। বস্ত্র খাতের এনভয় টেক্সটাইল ও সায়হাম টেক্সটাইলে উল্লেখযোগ্য লেনদেন হলেও বিক্রয়চাপ ছিল। সাধারণ বিমা খাতে প্রায় ৪৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতে প্রায় ২৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। প্রকৌশল খাতেও প্রায় ২৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

একক কোম্পানির মধ্যে এনভয় টেক্সটাইল সর্বোচ্চ লেনদেনের তালিকায় ছিল। কোম্পানিটির ৯ কোটি ৮৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হলেও দর কমেছে ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সায়হাম টেক্সটাইলের প্রায় ৯ কোটি ৩৯ লাখ ৭০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ারের দর অবশ্য অপরিবর্তিত ছিল। এ ছাড়া মতিন স্পিনিংয়ে প্রায় ৯ কোটি ১৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।

দরপতনের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি চাপে ছিল এপেক্স ফুটওয়্যার। কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১২ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে ১৭০ টাকা ৩০ পয়সায় নেমেছে। বিপরীতে বিবিএসের শেয়ারের দাম ৮ দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়ে দিনের অন্যতম শীর্ষ লাভজনক শেয়ারে পরিণত হয়েছে।

বাজারের লেনদেনে খুচরা বিনিয়োগকারীদের আধিপত্যও অব্যাহত ছিল। মোট লেনদেনের ৯৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ এসেছে খুচরা বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। তাদের কেনার অংশ ছিল ৯২ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং বিক্রির অংশ ৯৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ছিল মাত্র ৪ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে কেনার অংশ শূন্যের বিপরীতে বিক্রির অংশ ছিল শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশ।