দুর্গাপূজা, মিথ ও বাঙালি সংস্কৃতি প্রসঙ্গ

মোশাররফ হোসেন মুসা: যে জাতির নিজস্ব মিথ, লোককথা, কিংবদন্তি ও সাংস্কৃতিক স্মৃতি নেই, সেই জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে। কারণ মিথ কেবল কাল্পনিক গল্প নয়; এটি মানুষের দীর্ঘ সামাজিক অভিজ্ঞতা, প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক, ভয়-আশা, নৈতিক কল্পনা ও পূর্বপুরুষের স্মৃতিকে প্রতীকী ভাষায় ধারণ করার একটি প্রাচীন সাংস্কৃতিক পদ্ধতি। গ্রিক সভ্যতার জিউস, অ্যাথেনা ও প্রমিথিউসের কাহিনি যেমন গ্রিক সাহিত্য-শিল্পকে সমৃদ্ধ করেছে, তেমনি ভারতীয় উপমহাদেশের রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণ বহু শতাব্দী ধরে মানুষের চিন্তা এবং সৃজনশীলতাকে প্রভাবিত করেছে।

মিথকে ইতিহাস বা বৈজ্ঞানিক সত্য হিসেবে গ্রহণ করা যেমন যুক্তিসঙ্গত নয়, তেমনি তাকে নিছক মিথ্যা গল্প বলে বাতিল করাও সংস্কৃতির গভীরতা অনুধাবনে ব্যর্থতা। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দুর্গাপূজাকে বিচার করা প্রয়োজন। দুর্গাপূজা হিন্দু ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ উৎসব; একইসঙ্গে এটি বাংলার প্রকৃতি, ঋতুচক্র, কৃষিজীবন, পারিবারিক আবেগ, মৃৎশিল্প, সাহিত্য, সংগীত ও সামাজিক যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত একটি ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।

মিথ, ধর্ম ও সংস্কৃতির পারস্পরিক সম্পর্ক
মানুষ পৃথিবীকে শুধু যুক্তি দিয়ে বোঝে না; গল্প, প্রতীক ও কল্পনার মাধ্যমেও অর্থ খোঁজে। বিজ্ঞান প্রকৃতির কার্যকারণ অনুসন্ধান করে, ইতিহাস দলিল ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অতীতকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করে, দর্শন অস্তিত্ব ও জ্ঞানের মৌলিক প্রশ্ন নিয়ে চিন্তা করে; আর মিথ মানুষের অভিজ্ঞতাকে কাহিনি ও প্রতীকের মাধ্যমে অর্থবহ করে তোলে। ধর্মের সঙ্গে মিথের সম্পর্ক থাকলেও ধর্মীয় বিশ্বাস, ঐতিহাসিক সত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতীকের বিচারপদ্ধতি এক নয়।

প্রাচীন গ্রিসে হোমারের মহাকাব্য ও দেবদেবীর কাহিনির পাশাপাশি হেরোডোটাস ও থুকিডিডিসের ইতিহাসচর্চা অতীতকে অনুসন্ধানের নতুন পথ তৈরি করেছিল। পরবর্তী সময়ে ইউরোপে বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদ বিকশিত হলেও গ্রিক মিথ সাহিত্য, নাটক, চিত্রকলা ও দর্শনে টিকে থেকেছে। অর্থাৎ আধুনিকতা অর্জনের জন্য কোনো সমাজকে তার সাংস্কৃতিক স্মৃতি মুছে ফেলতে হয় না; বরং পুরোনো ঐতিহ্যকে নতুন জ্ঞান ও ব্যাখ্যার আলোকে বুঝতে হয়।

একইভাবে, কোনো ধর্মীয় ঐতিহ্যের সাংস্কৃতিক মূল্য স্বীকার করার অর্থ তার সব ধর্মতাত্ত্বিক বিশ্বাস গ্রহণ করা নয়। একজন মানুষ গ্রিক পুরাণের সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে পারেন, যদিও তিনি গ্রিক দেবদেবীতে বিশ্বাস করেন না। তেমনি দুর্গাপূজার প্রতিমা, সাহিত্য, সংগীত ও সামাজিক ইতিহাসের মূল্য বুঝতে হিন্দু ধর্মের অনুসারী হওয়া আবশ্যক নয়। সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া এবং ধর্মীয় বিশ্বাস দুটি পৃথক বিষয়।

সিইএম জোডের সভ্যতাবিষয়ক চিন্তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বলা যায়, পোশাক, আচার কিংবা বাহ্যিক অনুশাসনই সভ্যতার চূড়ান্ত পরিচয় নয়। মুক্তচিন্তা, সৃজনশীলতা ও ন্যায়বিচারের চর্চা একটি সমাজের সভ্যতাকে গভীরতা দেয়। যে সমাজ সব মানুষকে একইভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করতে চায়, সেখানে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও সৃজনশীলতার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বাংলার ভূগোল, শরৎ ও দুর্গোৎসব
দুর্গাপূজার বাঙালি রূপ বোঝার জন্য বাংলার ভূগোল ও কৃষিজীবন গুরুত্বপূর্ণ। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীব্যবস্থার বদ্বীপে নদী, বিল, চর, পলিমাটি ও মৌসুমি বৃষ্টিপাত মানুষের জীবনযাত্রাকে দীর্ঘকাল প্রভাবিত করেছে। বর্ষার পর শরতের নির্মল আকাশ, সাদা মেঘ, কাশফুল, হালকা বাতাস ও পরিপক্ব হতে থাকা ধান বাংলার মানুষের মনে বিশেষ ঋতুভিত্তিক অনুভূতি তৈরি করেছে।

দুর্গাপূজার শারদীয় রূপ এই প্রকৃতি ও ঋতুচক্রের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে গেছে। ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে নবরাত্রি, দশেরা, গরবা কিংবা রামলীলার যে স্বতন্ত্র রূপ দেখা যায়, বাংলায় দুর্গোৎসবও তেমনি নিজস্ব সামাজিক ও নান্দনিক বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে। একই ধর্মীয় ঐতিহ্য ভিন্ন ভূগোল, অর্থনীতি ও সামাজিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে ভিন্ন সাংস্কৃতিক রূপ লাভ করতে পারে। এ কারণেই ধর্মীয় প্রতীক ও উৎসবের বিবর্তন বুঝতে ভূগোল ও সমাজের ইতিহাস জানা প্রয়োজন।

মহিষাসুরমর্দিনী ও উমা: শক্তি থেকে মানবিক আবেগ
পুরাণে মহিষাসুরের বিরুদ্ধে দুর্গার যুদ্ধের কাহিনি বাঙালির সাংস্কৃতিক কল্পনায় শক্তিশালী স্থান দখল করে আছে। একে ঐতিহাসিক যুদ্ধের দলিল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজন নেই। বরং এর প্রতীকী অর্থ অনুসন্ধান করা যেতে পারে। ন্যায় ও অন্যায়, নিপীড়ন ও প্রতিরোধ, শৃঙ্খলা ও বিশৃঙ্খলার দ্বন্দ্বকে এই কাহিনির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। দেবীর হাতে অস্ত্র, শক্তি, সাহস ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

কিন্তু বাঙালি দুর্গাপূজার বিশেষত্ব শুধু মহিষাসুরমর্দিনী রূপে সীমাবদ্ধ নয়। বাঙালির কল্পনায় দুর্গা উমা— ঘরের মেয়ে। বাপের বাড়িতে মেয়ের কয়েক দিনের জন্য ফিরে আসা এবং আবার স্বামীর বাড়িতে চলে যাওয়ার পারিবারিক আবেগের সঙ্গে দুর্গার আগমন ও বিসর্জনের একটি গভীর সাদৃশ্য তৈরি হয়েছে। আগমনে আনন্দ, বিদায়ে বিষাদ এবং ‘আসছে বছর আবার দেখা হবে’— এই প্রত্যাশায় পুনর্মিলনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পায়।

এখানেই মিথের মানবিক রূপান্তর। দূরবর্তী দেবী আপন পরিবারের সদস্য হয়ে ওঠেন। ধর্মীয় আখ্যান পারিবারিক আবেগের সঙ্গে মিশে একটি স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক অনুভূতি সৃষ্টি করে। দুর্গা একইসঙ্গে শক্তির প্রতীক এবং কন্যার মমতাময় রূপ। এই দ্বৈততা বাঙালির সাংস্কৃতিক কল্পনাকে সমৃদ্ধ করেছে।

কৃষিস্মৃতি, শিল্প ও সামাজিক পরিবর্তন
দুর্গাপূজার নবপত্রিকা, প্রতিমা নির্মাণ ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে প্রকৃতি, উদ্ভিদ ও কৃষিজীবনের প্রতীকী সম্পর্ক রয়েছে। নবপত্রিকার ধর্মীয় ব্যাখ্যা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কৃষিনির্ভর সমাজে উদ্ভিদ, উর্বরতা ও ফসলের তাৎপর্যও বিবেচনার দাবি রাখে। তবে এসব আচারকে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট প্রাচীন কৃষি-উপাসনা থেকে এসেছে বলে প্রমাণ ছাড়া দাবি করা উচিত নয়। বরং এগুলোর মধ্যে ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রকৃতিনির্ভর জীবনের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক সম্পর্ক অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

দুর্গাপূজার প্রতিমা বাংলার মৃৎশিল্প ও কারুশিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। মাটি, খড়, বাঁশ, রঙ, অলঙ্কার ও শিল্পীর দক্ষতা মিলিয়ে প্রতিমা নির্মিত হয়। মণ্ডপসজ্জায় কখনও ইতিহাস, কখনও লোকশিল্প, কখনও পরিবেশ কিংবা সমকালীন সামাজিক সংকটের প্রতিফলন ঘটে। ফলে দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় আচার নয়; এটি শিল্পীর সৃজনশীলতা ও শ্রমেরও প্রকাশ।

বাংলায় জমিদার ও বিত্তশালী পরিবারের দুর্গাপূজা এক সময় সামাজিক মর্যাদা ও সম্পদ প্রদর্শনের ক্ষেত্র ছিল। পরবর্তী সময়ে বারোয়ারি ও সার্বজনীন পূজার বিস্তার উৎসবকে বৃহত্তর সামাজিক অংশগ্রহণের পরিসরে নিয়ে আসে। এই পরিবর্তনের মধ্যে পাড়াভিত্তিক সংগঠন, সম্মিলিত উদ্যোগ ও নাগরিক সমাজের বিকাশের ইতিহাসও রয়েছে। আধুনিক দুর্গোৎসব প্রতিমাশিল্পী, মণ্ডপ নির্মাতা, আলোকসজ্জাকর্মী, ফুল বিক্রেতা, পরিবহনকর্মী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার সঙ্গেও যুক্ত। অর্থাৎ উৎসবটি ধর্ম, শিল্প, অর্থনীতি ও সামাজিক সম্পর্কের সমন্বিত ক্ষেত্র।

সাহিত্য, জাতীয়তাবাদ ও নারীশক্তি
বাংলা সাহিত্যেও দুর্গা ও মাতৃভাবনার গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি রয়েছে। বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দেমাতরম্’ মাতৃভূমিকে দেবীমূর্তির সঙ্গে কল্পনা করে ঔপনিবেশিক যুগের জাতীয়তাবাদী ভাবনায় প্রভাব বিস্তার করেছিল। এখানে ধর্মীয় প্রতীক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অর্থ লাভ করে। কাজী নজরুল ইসলামের কবিতায় শক্তি ও বিদ্রোহের ধারণা অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের জাগরণ এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

দুর্গার যোদ্ধা ও রক্ষাকর্ত্রী রূপ নারীশক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতীক। তবে দেবীকে পূজা করলেই বাস্তব সমাজে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না। প্রতীকী সম্মান ও বাস্তব সমঅধিকার এক বিষয় নয়। নারীর শিক্ষা, সম্পত্তির অধিকার, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করলেই নারীশক্তির ধারণা বাস্তব অর্থ লাভ করবে।

বহুত্ববাদী বাংলাদেশে দুর্গাপূজার তাৎপর্য
বাংলার সংস্কৃতি কোনো একক ধর্মীয় উৎস থেকে তৈরি হয়নি। বৌদ্ধ, হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, আদিবাসী ও বিভিন্ন লোকজ ঐতিহ্যের দীর্ঘ মিথস্ক্রিয়ায় এ সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। ভাষা, নদী, কৃষি, খাদ্যাভ্যাস, সাহিত্য, সংগীত, লোকাচার ও সামাজিক সম্পর্ক মিলেই বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্মিত হয়েছে।

বাংলাদেশে দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। একইসঙ্গে এর শিল্প, নান্দনিকতা ও সামাজিক উপস্থিতি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিসরেও তাৎপর্য বহন করে। কোনো ধর্মীয় উৎসবের সাংস্কৃতিক মূল্য স্বীকার করা মানে সেই ধর্মের বিশ্বাস গ্রহণ করা নয়। বরং ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষের ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান দেখানো বহুত্ববাদী সমাজের মৌলিক শর্ত।

একটি জীবন্ত সংস্কৃতি কখনও স্থির থাকে না। পুরোনো প্রতীক নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন অর্থ পায়; ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন শিল্প, চিন্তা ও সামাজিক অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়। তাই মিথকে ধ্বংস করার পরিবর্তে তার ঐতিহাসিক সীমা ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য বোঝা প্রয়োজন। মিথকে ইতিহাসের বিকল্প না বানিয়ে সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে মূল্যায়ন করাই যুক্তিসঙ্গত।

শেষে বলা যায়, দুর্গাপূজা বাঙালি সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে তার বহুমাত্রিকতার কারণে। এর মধ্যে রয়েছে পুরাণের দেবী, শরতের প্রকৃতি, কৃষিজীবনের স্মৃতি, কন্যার বাপের বাড়ি ফেরার আবেগ, শিল্পীর সৃজনশীলতা, কবির কল্পনা, কারিগরের শ্রম এবং মানুষের সম্মিলিত সামাজিক জীবন। তাই একে শুধু ধর্মীয় আচার হিসেবে দেখলে তার সাংস্কৃতিক ব্যাপ্তি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আবার এর ধর্মীয় পরিচয় অস্বীকার করলেও বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হারিয়ে যায়।

একটি জাতি তখনই সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ হয়, যখন সে নিজের ঐতিহ্যকে বুঝতে পারে, ইতিহাসকে সমালোচনামূলকভাবে বিচার করতে পারে এবং ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষের সাংস্কৃতিক অধিকারকে সম্মান করে। দুর্গাপূজার তাৎপর্যও এই উপলব্ধির মধ্যে নিহিত— ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেও সাংস্কৃতিক সহাবস্থান সম্ভব।

শরতের আকাশে কাশফুল দোলে, মৃৎশিল্পীর হাতে মাটি পায় দেবীর অবয়ব, ঢাকের শব্দে জেগে ওঠে উৎসবের আবহ। এই দৃশ্য শুধু পূজার আগমন ঘোষণা করে না; বাংলার প্রকৃতি, শিল্প, আবেগ ও দীর্ঘ সাংস্কৃতিক স্মৃতির সঙ্গেও মানুষের নতুন সংযোগ তৈরি করে। সেই কারণেই দুর্গাপূজা শুধু দেবী আরাধনার উৎসব নয়; এটি বাঙালির বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক জীবন্ত অধ্যায়।

পরিচালক, প্রাইমারি কালচার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (পিসিডিসি)