রাতে ঘি মাখলে কি ঘুম ভালো ও ত্বক উজ্জ্বল হয়?

অনলাইন ডেস্ক: অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও উদ্বেগের কারণে রাতে সহজে ঘুম না আসা কিংবা সামান্য শব্দেই ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যায় অনেকেই ভুগে থাকেন। একই সঙ্গে সুস্থ ও উজ্জ্বল ত্বক ধরে রাখার প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে রান্নাঘরের পরিচিত উপাদান ঘিয়ের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা চলছে, যা রূপচর্চায় বিভিন্ন তারকার অভ্যাসের কারণেও নজরে এসেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাতে ঘুমানোর আগে পায়ের পাতায় সামান্য ঘি মেখে আলতো হাতে মালিশ করলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং দিনের ক্লান্তি দূর হয়ে শরীর শিথিল হয়। ঘুমের আগে এমন শান্ত পরিবেশ মনকে প্রফুল্ল করতে এবং শরীরকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করতে সহায়তা করে।

তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেছেন যে, কেবল ঘি মেখে নিলেই গভীর ঘুম আসবে—এমন ধারণার পক্ষে কোনো সরাসরি বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। মূলত মালিশের মাধ্যমে স্নায়ুগুলো শান্ত হওয়া এবং শোবার আগে নিজের যত্ন নেওয়ার আরামদায়ক প্রক্রিয়াই মানুষকে দ্রুত ঘুমাতে সাহায্য করে। ফলে এটি ঘুমের পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হলেও স্থায়ী বা দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রার সমস্যায় কেবল ঘিয়ের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করা জরুরি।

ত্বকের সুরক্ষায় ঘরোয়া উপাদান হিসেবে শুষ্ক ত্বকে ঘিয়ের ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। এতে থাকা প্রাকৃতিক ফ্যাটি অ্যাসিড বা চর্বিজাতীয় উপাদান ত্বকের উপরিভাগে একটি হালকা আবরণ তৈরি করে আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে, যার ফলে খসখসে ভাব দূর হয়ে ত্বক সাময়িকভাবে নরম ও মসৃণ দেখায়। তবে চিকিৎসকদের মতে, ঘি ব্যবহার করলেই ত্বকের দাগছোপ দূর হওয়া কিংবা দীর্ঘস্থায়ী উজ্জ্বলতা পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে ত্বক নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা এবং দিনের বেলা সানস্ক্রিন লাগানো অনেক বেশি বৈজ্ঞানিক ও ফলপ্রসূ।

ঘি সবার ত্বকের জন্য সমান নিরাপদ নয়, বিশেষ করে যাদের ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত কিংবা সহজেই ব্রণ হওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাঁদের মুখে সরাসরি ঘি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত হওয়ায় এটি ত্বকের রোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে এবং ব্রণের সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে। এ ধরনের ত্বকে ঘিয়ের বদলে হালকা নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো। এমনকি শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রেও মুখে নিয়মিত ব্যবহারের আগে ত্বকের কোনো একটি ছোট অংশে ‘প্যাচ টেস্ট’ করে নেওয়া উচিত; ব্যবহারে চুলকানি বা কোনো অস্বস্তি দেখা দিলে তা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

ত্বকে বাহ্যিক ব্যবহারের পাশাপাশি প্রতিদিনের রান্নায় ঘি খাওয়ার ক্ষেত্রেও পরিমিতিবোধ বজায় রাখা প্রয়োজন। ঘিয়ে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকায় মাত্রাতিরিক্ত গ্রহণ স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তাই সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। সামগ্রিকভাবে ত্বকের ধরন ও সংবেদনশীলতা বুঝে সঠিক উপাদান ব্যবহার করা এবং নিয়মতান্ত্রিক ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলাই সুস্থতা ও সৌন্দর্য বজায় রাখার সঠিক উপায়।
জেএ/অভি