আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় দুর্গাপূজার অষ্টমীর রাতে স্ত্রী ও বাবাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের পর ধারালো অস্ত্র হাতে গ্রামে ঘুরে বেড়ানোর ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। তবে জোড়া হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সোমবার রাতে জেলার সোনামুখী থানার দামোদর নদের চরে অবস্থিত লাল বাবা মানাচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তের নাম মঙ্গল চৌধুরী। নিহত ব্যক্তিরা হলেন তার স্ত্রী রুম্পা চৌধুরী (৩৯) ও বাবা রাজেন্দ্র চৌধুরী (৬০ বছরের বেশি)।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, প্রথমে নিজের আঙুল কাটেন মঙ্গল। এরপর বাড়ির ভেতরে স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ। পরে স্ত্রীর মুণ্ডু বাড়ির ঠাকুরঘরের ত্রিশূলের সামনে রেখে দেন তিনি। এরপর বাবাকেও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
দুটি হত্যাকাণ্ডের পর হাতে কাটারি নিয়ে গ্রামে ঘুরতে থাকেন অভিযুক্ত। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সোনামুখী থানার পুলিশ। তাকে অস্ত্র ফেলে আত্মসমর্পণ করতে বারবার নির্দেশ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। নিহত দুজনের মরদেহও নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।
স্থানীয়দের দাবি, মঙ্গল ও তার স্ত্রী নিয়মিত বাড়ির মন্দিরে পূজা-অর্চনা করতেন। তাদের বাড়িতে এক তান্ত্রিকের যাতায়াত ছিল বলেও জানিয়েছেন তারা। এ ঘটনার পেছনে কুসংস্কার বা অন্ধবিশ্বাসের কোনো ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
জা.অর্থনীতি/এসআই